Marketing

এসএমআর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু

image (2)

এসএমআর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্র নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। দেশের বৃহৎ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি তুলনামূলক ছোট ও আধুনিক প্রযুক্তির এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (সিইইসি) একটি বিশেষজ্ঞ দল জামালপুরের মাদারগঞ্জ এলাকা পরিদর্শন করেছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর বা এসএমআর প্রযুক্তির এই কেন্দ্র স্থাপনের জন্য চীনা বিশেষজ্ঞ দলকে দেশের চারটি সম্ভাব্য স্থান দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুরের মাদারগঞ্জের চর এলাকা ইতোমধ্যে পরিদর্শনের কাজ শেষ হয়েছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে তাদের পরিদর্শনের কথা রয়েছে। প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিপিডিবি এবং সিইইসির মধ্যে একটি অ-বাধ্যতামূলক সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ও মাঝারি মাত্রার এই কেন্দ্রগুলো নির্মাণ করে সম্মিলিতভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিয়মানুযায়ী, সাধারণ পরমাণু চুল্লির তুলনায় ছোট ক্ষমতার ও মডিউলার নকশার আধুনিক চুল্লিকে এসএমআর হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সাধারণত প্রতি ইউনিটে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক চুল্লি এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। কারখানায় যন্ত্রাংশ তৈরি করে সরাসরি স্থাপনস্থলে এনে বসানোর সুবিধা থাকায় এই প্রযুক্তিতে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সহজ হয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে চূড়ান্ত কাজ শুরু করার আগে কারিগরি উপযোগিতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং নিরাপত্তার বহুমাত্রিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, চার স্থানের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও সমীক্ষা শেষ হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কারিগরি ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন এবং পরমাণু নিরাপত্তা সংস্থার ছাড়পত্র সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। শক্তি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রতিনিধিদলের পরিদর্শন ও সমঝোতা স্মারক এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের রূপ নয়; তবে এটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতিবাচক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করছে।

অন্যদিকে, দেশের প্রথম বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের চালুকরণ অগ্রগতি নিয়ে বিপিডিবির কাছে এখনো বিস্তারিত কোনো স্পষ্ট রূপরেখা নেই। কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হলেও প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের চূড়ান্ত শুল্ক নির্ধারিত হয়নি। পূর্বে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সম্ভাব্য মূল্য প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৬ টাকা ৭২ পয়সা ধরা হলেও পরিচালন ব্যয় ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পরেই কেবল চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হবে বলে বিপিডিবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করে দেশে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ক্ষুদ্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন সম্ভব হলে তা জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *