Marketing

এডিস মশা শনাক্তে এআই ফাঁদ উদ্ভাবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের

wnb news 1792228194 CXzMql

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা শনাক্তে এআই ফাঁদ উদ্ভাবন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল গবেষক। ‘MAST-CloudNet’ নামের এই আধুনিক ইন্টারনেট-সংযুক্ত স্মার্ট যন্ত্রটি নির্দিষ্ট শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে মশা আকর্ষণ করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রয়োগ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রজাতি চিহ্নিত করে। এর মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ‘মাইক্রোসিস্টেমস অ্যান্ড ন্যানোইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব’ এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘মুঈদ রিসার্চ গ্রুপ’ যৌথভাবে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিলের অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্ভাবনের তথ্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী ‘আইইইই ট্রানজ্যাকশনস অন ইন্সট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড মেজারমেন্ট’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা দলটিতে নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক ড. সায়্যেদ মাহমুদ উল্লাহ, সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার আশফাকুল মুঈদ এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীবসহ তরুণ শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ।

উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটির কার্যপদ্ধতি বেশ অভিনব। উড়ার সময় স্ত্রী এডিস মশার ডানার নির্দিষ্ট কম্পাঙ্ক (৩৫০ থেকে ৫০০ হার্জ) অনুকরণ করে যন্ত্রটি শব্দ উৎপন্ন করে। এই শব্দে আকৃষ্ট হয়ে পুরুষ মশা কাছাকাছি এলে ভেতরের ফ্যান সেগুলোকে টেনে নিয়ে হলুদ আঠালো কাগজে আটকে ফেলে। পরবর্তীতে ফাঁদে থাকা ক্যামেরা মশার ছবি তুলে ক্লাউড সার্ভারে পাঠায়, যেখানে নিউরাল নেটওয়ার্কভিত্তিক এআই মডেল তাৎক্ষণিকভাবে প্রজাতি শনাক্ত করে লাইভ ড্যাশবোর্ডে পাঠায়। প্রজননস্থলে স্ত্রী মশার আগেই পুরুষ এডিসের জন্ম হওয়ায়, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাজার আগেই ঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব।

পরীক্ষাগারের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত নীরব ফাঁদের তুলনায় এই শব্দযুক্ত এডিস মশা শনাক্তে এআই ফাঁদ প্রায় পাঁচ গুণ বেশি মশা ধরতে সক্ষম। বৃষ্টি ও বাতাসের মধ্যে ঢাবি ক্যাম্পাসে টানা ৭২ ঘণ্টার ফিল্ড ট্রায়ালে যন্ত্রটি ৪৯টি এডিস মশা ধরেছে। আন্তর্জাতিক সিডিসি লাইট ট্র্যাপ বা বিজি-সেন্টিনেল ট্র্যাপের দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা হলেও, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ফাঁদটির উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ১২ হাজার টাকা।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের জুনের দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আবাসিক এলাকায় ১০ থেকে ১৫টি ফাঁদ বসিয়ে ডেঙ্গু হটস্পটের আগাম মানচিত্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ডিভাইসটিকে ভবিষ্যতে সৌরশক্তি চালিত করা এবং সরাসরি তথ্য পাঠানোর নেটওয়ার্ক যুক্ত করার কাজ চলছে। এ প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ দেশে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *