Marketing

বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস চালু: স্টার্টআপ খাতে ৪০০ কোটি টাকার বিশাল উদ্যোগ

wnb news 1790467411 hjgY1c

দেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের মূলধন সংকট দূর করতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ৪০০ কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস। সরকারি ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের এই বিশেষ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে দেশের উদ্ভাবনী শিল্পকে শক্তিশালী করা। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে নতুন এই তহবিলের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, মেধা ও উদ্ভাবনী ধারণার প্রাচুর্য থাকলেও সঠিক পুঁজির অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ মাঝপথে থেমে যায়। সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে অর্থের অভাবে কোনো ভালো পরিকল্পনা আটকে থাকবে না। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কেবল সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতকেও এই বর্ধনশীল স্টার্টআপ খাতে ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে পারলেও তাতে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অবদান ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস গঠনের মূল লক্ষ্য হলো এই অসমতা দূর করা এবং দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটালকে আকৃষ্ট করা। একই অনুষ্ঠানে যোগ্য ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন আহ্বান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন স্টার্টআপগুলোর জন্য শুধু মূলধন যোগান দিলেই চলবে না, তাদের প্রশিক্ষণ, সঠিক দিকনির্দেশনা ও আন্তর্জাতিক বাজার সংযোগ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের অর্জিত লাভ সহজে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই তহবিলের পরিচালনা পদ্ধতি, সুশাসন ও বিনিয়োগ কৌশল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মানের ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে এই তহবিল পরিচালনা করা হবে। সংস্থাটি ইতোমধ্যে ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, যা নতুন এই তহবিলের মাধ্যমে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এই নতুন উদ্যোগটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এটি একদিকে যেমন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতির ভিতকে সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *