Marketing

স্টার্টআপ অর্থায়ন বাড়াতে ৪০০ কোটি টাকার ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’ চালু

wnb news 1789744532 dvcg7X

স্টার্টআপ অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ ও নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের বিকাশ ঘটাতে ৪০০ কোটি টাকা প্রাথমিক মূলধনের ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন সরকার-সমর্থিত ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজধানীর আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নতুন এই অর্থায়ন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশীয় স্টার্টআপগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক মূলধন আকৃষ্ট করা এবং স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে অনন্য উদ্ভাবনী ভাবনার অভাব নেই। একটি সঠিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে অর্থসংকটের কারণে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন আটকে থাকবে না। সরকার কেবল একা তহবিল না দিয়ে বেসরকারি খাতকেও এই অগ্রযাত্রায় জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রেখে নতুন এই তহবিল পরিচালনা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিগত দশকে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলো প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হলেও তাতে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অবদান ছিল মাত্র সাত শতাংশের কাছাকাছি। প্রবর্তিত ফান্ড অব ফান্ডস স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক মূলধনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এই অসমতা দূর করবে। ফলে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতের অবকাঠামো আরও মজবুত হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় স্টার্টআপগুলোর প্রবেশের পথ সুগম হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বহুমাত্রিক রূপ দিতে প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ খাতের বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। শুধু মূলধন বরাদ্দ নয়, বরং তরুণ উদ্যোক্তাদের সঠিক নির্দেশনা, মেন্টরশিপ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজার সংযোগ সুগম করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিদেশী ও দেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য সুরক্ষিত আইনি পরিবেশ এবং মূলধন ফেরত নেওয়ার সহজ প্রক্রিয়ার বিষয়েও সরকার তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ফান্ডের সুনির্দিষ্ট কৌশল ও পরিচালনা কাঠামো উপস্থাপন করে জানান, যোগ্য ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় নির্বাচিত দেশি-বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোতে যৌথ বিনিয়োগ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তিবাজারের জন্য একটি অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *