Marketing

এআই দিয়ে ভুয়া সংবাদ তৈরির ২৯ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল অ্যানথ্রপিক

image (2)

এআই দিয়ে ভুয়া সংবাদ তৈরি ও রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ২৯টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার একজন ব্যক্তি তাদের তৈরি চ্যাটবট ‘ক্লড’ ব্যবহার করে প্রায় ১৬ মাস ধরে অসত্য তথ্য ছড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। ‘জিটিজি-৫৪০০৬’ হিসেবে চিহ্নিত এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মূলত আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা হতো।

অ্যানথ্রপিকের ‘ডিটেক্টিং অ্যান্ড কাউন্টারিং মিসইউজ অব এআই’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি অপব্যবহার শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এড়াতে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মোট ২৯টি ক্লড অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন। তিনি ‘ফেক_নিউজ_৩.পিওয়াই’ নামের একটি বিশেষ কাস্টম সফটওয়্যার ব্যবহার করে সরাসরি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর মাধ্যমে প্রতি ব্যাচে ১৫টি বিভ্রান্তিকর শিরোনাম, ৩টি পূর্ণাঙ্গ বানোয়াট প্রতিবেদন এবং ছবি তৈরির ১৫টি নির্দেশনা প্রস্তুত করা হতো। ১৬ মাসের এই কার্যক্রমে অন্তত ৩০০টি অসত্য সংবাদ ও ১ হাজার ৫০০টি প্রম্পট তৈরি করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি এসব মিথ্যা কনটেন্ট প্রথমে ক্লাউড স্টোরেজে জমা রাখা হতো এবং পরে অডিও-ভিডিওতে রূপান্তর করে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হতো। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে মনগড়া গল্প ও আর্থিক দুর্নীতির বানোয়াট অভিযোগ ছড়ানো হয়েছিল এই প্রচারণায়।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেরা জেনেবুঝেই সহজবোধ্য ও আক্রমণাত্মক ভাষায় এসব মিথ্যা তথ্য প্রচার করছিলেন, যাতে গ্রামীণ মানুষের কাছে তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। প্রযুক্তিগত অবকাঠামো আড়াল করতে এবং অটোমেটিক ভিডিও আপলোডের জন্য ইউটিউব এপিআই ও তৃতীয় পক্ষের ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহার করা হতো। তবে এই অপপ্রচারের পেছনে কোনো সরাসরি রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা বা অর্থায়নের প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক।

ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর অ্যানথ্রপিক ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত সব অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে এবং নতুন শনাক্তকরণ অ্যালগরিদম যুক্ত করেছে। এছাড়া সংগৃহীত কারিগরি তথ্যসমূহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে স্বল্প দক্ষ ব্যক্তিরাও বড় পরিসরে অপপ্রচার চালাতে পারছে, যা মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *