ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই নীতি: নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ ও ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা
21 September 2026 —
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের গতিপথ পুনর্নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নতুন ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একজন বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ এবং একটি শক্তিশালী ‘এআই ফোর্স’ গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই নতুন পদক্ষেপের কথা জানান। তবে মার্কিন প্রযুক্তি খাতে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে নতুন দিক উন্মোচনের আভাস দেওয়া হলেও, প্রস্তাবিত কাঠামোর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, কাজ ও তদারকি পদ্ধতির স্পষ্ট কোনো রূপরেখা প্রকাশ করেননি তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ঘোষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে শীর্ষস্থানে রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তবে ক্যাপিটল হিল এবং ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত এআই উপদেষ্টা কিংবা নবগঠিত ‘এআই ফোর্স’-এর সুনির্দিষ্ট আওতা কী হবে—এটি কোনো প্রশাসনিক বা তদারকি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে নাকি স্রেফ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক সুবিধা দেওয়ার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এই ঘোষণার প্রেক্ষাপট এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন ওয়াশিংটনজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সম্ভাব্য জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ কাজ করছে। সম্প্রতি এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর সাবেক গবেষক জেকব কক্সন এক চরম সতর্কবার্তায় জানান, বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ে কাজ করা গবেষকদের একটি বড় অংশই আশঙ্কা করছেন যে, কোনো প্রকার সরকারি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এআই-এর অবাধ বিকাশ চলতি দশকের শেষ নাগাদ মানবজাতির মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্রযুক্তিবিদদের এই কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এআই খাতের ওপর কোনো প্রকার আইনি বাধ্যবাধকতা বা কড়াকড়ি আরোপের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই প্রযুক্তি খাতে নতুন কড়া সরকারি নিয়মকানুন চাপানোর তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। তার মতে, এআই খাতের ওপর মাত্রাতিরিক্ত সরকারি তদারকি চালু করলে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক বিকাশ ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা ব্যাহত হবে, যার সুযোগ নেবে বৈশ্বিক প্রতিযোগীরা। ফলে নিরাপত্তা উদ্বেগের চেয়ে মার্কিন এআই শিল্পের প্রসার ও বিশ্ববাজারে আধিপত্য ধরে রাখাই তার প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছাড়া কেবল পদ ও বিশেষ দল গঠনের সিদ্ধান্ত মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বাজারের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা ধোঁয়াশা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়া কেবল উপদেষ্টা নিয়োগ মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সুরক্ষায় কতটা কার্যকরী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এআই উপদেষ্টা নিয়োগ ও বিশেষ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা বৈশ্বিক প্রযুক্তির রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে এআই-এর অনিয়ন্ত্রিত বিকাশজনিত ঝুঁকি অন্যদিকে অর্থনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখার মার্কিন কৌশল—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ প্রযুক্তি খাতের গতিপথ কোথায় নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ববাসী।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com