স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়াতে ৪০০ কোটি টাকার ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’ শুরু
21 September 2026 —
স্টার্টআপে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশীয় উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ৪০০ কোটি টাকার ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন এই ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের নতুন উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মূলধন আকর্ষণ এবং স্থানীয় প্রযুক্তি খাতের সার্বিক বিকাশ ত্বরান্বিত করা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, দেশে প্রতিভাবান উদ্যোক্তা ও চমৎকার উদ্ভাবনী ধারণার অভাব নেই। তবে মূলধনের অভাবে যেন কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থমকে না যায়, সে জন্য সরকার একটি টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দেশের ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তবে এই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে কেবল সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসা উচিত।
নতুন এই তহবিলের সঠিক পরিচালনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পেশাদারত্ব এবং সুশাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অভিজ্ঞ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড নির্বাচন করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রিকোয়েস্ট ফর এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ বা আরইওআই (REOI) আহ্বান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা শুধু প্রয়োজনীয় মূলধনই পাবেন না, বরং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও বিশ্বমানের বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বহুমুখী করতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও স্টার্টআপ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কেবল আর্থিক অনুদান বা মূলধন যোগান দিয়েই একটি স্টার্টআপ সফল হতে পারে না; তার জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা বা মেন্টরশিপ, কারিগরি দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুবিধা। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন ফেরত ও সুরক্ষার জন্য আইনি প্রক্রিয়া আরও সহজ করার আশ্বাস দেন তিনি।
বিগত এক দশকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্টার্টআপ খাত প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হলেও তাতে স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অনুপাত ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। ৪০০ কোটি টাকার এই ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’ স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের এই বড় ঘাটতি দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। এটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com