পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই
26 September 2026 —
পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং বেসামরিক প্রযুক্তিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে সই করেন। এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পরমাণু খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান এবং পারমাণবিক নিরাপত্তার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সই করেন দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে বেসামরিক ও জনকল্যাণমুখী কাজে পরমাণু প্রযুক্তির নিরাপদ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এই সমঝোতা স্মারকের প্রধান লক্ষ্য। ১৯৮১ সালে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ প্রসারে দুই দেশের মধ্যে যে প্রাথমিক সহযোগিতা শুরু হয়েছিল, এই নতুন চুক্তিকে তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের আগে নিউ ইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি পৌলোস মরিসন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেছে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় উভয় দেশের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরমাণু প্রযুক্তির এই সমঝোতা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন এক উচ্চতায় উন্নীত করল।
বিশ্বমঞ্চে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নীতি মেনে চলায় বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাতের সুরক্ষায় পরমাণু প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ধরণের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে দেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় প্রকল্পের মাধ্যমে পরমাণু শক্তিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বশক্তির সঙ্গে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষর দেশের পরমাণু নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে এবং তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে। একইসঙ্গে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রসারে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com