কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ প্রকল্পে অভূতপূর্ব সাড়া: ১,৬০০ আসনে আবেদন লাখ ছাড়াল
26 September 2026 —
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ গ্রহণে দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া জেগেছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর পরিচালিত ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের লিখিত পরীক্ষায় ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮ জন বৈধ প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। সারাদেশের ৬৪টি জেলায় নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায়ে মাত্র ১,৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হবে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬৪টি জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১,৬০০ জন তরুণ-তরুণীকে এই নিবিড় প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হবে। ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে প্রতিযোগিতার হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, যেখানে মাত্র ২৫টি আসনের বিপরীতে ১৭ হাজার ৫৫২ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। ফলে রাজধানীতে প্রতি আসনের জন্য গড়ে প্রায় ৭০২ জন এবং সারাদেশে গড়ে ৬৪ জনেরও বেশি প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন। লিখিত পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ শেষে যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিতদের নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।
দুই বছর মেয়াদি এই বিস্তৃত প্রকল্পের আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণীকে বিনামূল্যে আধুনিক প্রযুক্তি শেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জনকে বেসিক এবং ১,৬০০ জনকে অ্যাডভান্সড পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি প্রশিক্ষণ দুই মাস মেয়াদি, যেখানে ৫০টি ক্লাসে মোট ৩০০ ঘণ্টার পাঠদান থাকবে। প্রশিক্ষণে চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, মিডজার্নি, রানওয়ে ও অ্যাডোবি সেনসেইসহ বিশ্বমানের শীর্ষস্থানীয় এআই টুলসের বাস্তব প্রয়োগ শেখানো হবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রশিক্ষণই নয়, বরং উদ্ভাবনী স্টার্টআপ খাতকে গতিশীল করতে সরকার ৪০০ কোটি টাকার ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’ চালু করেছে। এর পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে গ্রামীণফোনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের কাছে এআই প্রযুক্তি সহজলভ্য করতে ওয়ানএআই-এর মতো সুবিধা চালু করছে। সার্বিকভাবে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় দেশের প্রযুক্তি খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে শিল্প ও কর্মসংস্থান খাতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে, তা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। বৈশ্বিক এই চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার নিরিখে সরকারের এই বিস্তৃত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশের তরুণদের আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com