ট্রি মনিটরিং অ্যাপ চালু করছে সরকার: ডিজিটাল নজরদারিতে থাকবে রোপণ করা গাছের বেঁচে থাকার হার
27 September 2026 —
ট্রি মনিটরিং অ্যাপ নামে একটি জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার, যার মাধ্যমে সারাদেশে রোপণ করা গাছের অবস্থান, সার্বিক বৃদ্ধি এবং বেঁচে থাকার হার জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ এই উদ্যোগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। নতুন এই ডিজিটাল অ্যাপে জিও-কোঅর্ডিনেটের সাহায্যে গাছের সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিতকরণ এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর ছবি আপলোডের সুবিধা যুক্ত থাকছে, যা দেশের বনায়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনবে।
অতীতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পের অধীনে বিপুল পরিমাণ চারাগাছ রোপণ করা হলেও যথাযথ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তার একটি বড় অংশই মারা যেত। ফলে প্রতি বছর একই স্থানে পুনরায় বৃক্ষরোপণ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ও এনজিও তহবিলের অপচয় ঘটেছে। এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অপচয় রোধ এবং দেশের প্রকৃত সবুজ আচ্ছাদন বা গ্রিন কভারেজ সঠিকভাবে পরিমাপ করার উদ্দেশ্যেই জাতীয় এই প্রযুক্তিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই ট্রি মনিটরিং অ্যাপ এর কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জানা গেছে, অ্যাপটিতে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ব্যবহার করে চারাগাছের বর্তমান তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেজে যুক্ত করা হবে। মাঠপর্যায়ের নজরদারি কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে ঘটনাস্থল থেকে চারাগাছ বা গাছপালার গুচ্ছের ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করা বাধ্যবাধকতা থাকবে। তবে বিস্তৃত বনাঞ্চলের ক্ষেত্রে ছবি সংগ্রহ ও আপলোডের জন্য পৃথক কারিগরি নির্দেশিকা প্রকাশ করবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে দেশের ১২০টিরও বেশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৮৩টি এনজিও তাদের কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্য জমা দিয়েছে। বাকি সংস্থাসমূহকে দ্রুততম সময়ে হালনাগাদ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অ্যাপটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের পূর্বেই মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জিও-কোঅর্ডিনেট ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাছ রোপণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে ভৌগোলিক পরিবেশ ও মাটির বৈচিত্র্য বিবেচনায় কোনো এলাকায় কোন প্রজাতির চারা উপযোগী, সে সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকাও প্রস্তুত করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এনজিওগুলোর কারিগরি সমস্যা দূর করা এবং সরাসরি সহায়তার উদ্দেশ্যে খুব শিগগিরই একটি ডেডিকেটেড ফোন নম্বর ও ইমেইলভিত্তিক হেল্পডেস্ক চালু করা হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে টেকসই বনায়ন গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com