Marketing

শিশুর অনলাইন সুরক্ষায় বৈশ্বিক জোট ও টেকসই কাঠামোর তাগিদ বাংলাদেশের

wnb news 1791504450 ztaJzi

সাইবার জগতের দ্রুত বিস্তার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিশুর অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী সমন্বিত প্রযুক্তিগত ও আইনি ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। রাশিয়ার মস্কোয় অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল চাইল্ডহুড উইদাউট বর্ডারস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক নীতি-নির্ধারণী ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এই বৈশ্বিক সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, বৈশ্বিক ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু জাতীয় আইন যথেষ্ট নয়, বরং বিশ্বজুড়ে যৌথ অংশীদারত্ব জরুরি।

বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই সম্মেলনে বৈশ্বিক ডিজিটাল রূপান্তরের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় দেশের শিশুরা শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রযুক্তির অবারিত সুযোগ পাচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি নতুন ধরনের সাইবার ঝুঁকি, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং অনলাইন শোষণের মুখোমুখি হচ্ছে তারা, যা তাদের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তাকে ব্যাহত করছে।

শিশুদের ডেটা সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারণী পদক্ষেপের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করা হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ রোধে বৈশ্বিক জ্ঞান, কারিগরি সমাধান এবং সেরা চর্চার পারস্পরিক বিনিময় অপরিহার্য। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের আলোকে অধিকারভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো গঠনে জোর দেওয়া হয়।

সম্মেলনে উত্থাপিত ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স টু প্রটেক্ট চিলড্রেন ইন দ্য ডিজিটাল এনভায়রনমেন্ট’-এর খসড়া নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানানো হয়। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার তিনটি মৌলিক নীতির মধ্যে রয়েছে—শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে অগ্রাধিকার প্রদান, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের যৌথ জবাবদিহিতা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সেরা অভিজ্ঞতা বিনিময়। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতাকে বৈশ্বিক কৌশলে প্রতিফলিত করার আহ্বান জানানো হয়।

ইমার্জিং প্রযুক্তির অশুভ প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষায় ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানোকে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কারিগরি জ্ঞান বাড়াতে যৌথ গবেষণা ও একটি বিশেষ কারিগরি প্ল্যাটফর্ম চালুর প্রস্তাবকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। ভৌগোলিক সীমানা নির্বিশেষে একটি নিরাপদ, সৃজনশীল ও শিশুবান্ধব ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *