এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ বাড়লেও অর্থনৈতিক সুফল নিয়ে বাড়ছে সংশয়
6 October 2026 —
বিশ্বজুড়ে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করার তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হলেও এর বাস্তব অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদেরা। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা পিডব্লিউসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে কেবল ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামো নির্মাণেই প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। তবে এত বিশাল অঙ্কের মূলধন ঢালার বিপরীতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো মুনাফা অর্জন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক আগামী বছরগুলোতে প্রায় ৫১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সম্ভাব্য আয়ের প্রায় ১০০ গুণ। অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন অ্যান্ড কোম্পানির হিসাব মতে, অবকাঠামোগত বিপুল ব্যয় সামাল দিতে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অতিরিক্ত ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার আয় করতে হবে। কিন্তু প্রযুক্তি বাজারের বর্তমান অবস্থায় এই পরিমাণ রাজস্ব অর্জন কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর সংশয় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সবচেয়ে বেশি অর্থ ঢালা দেশ যুক্তরাষ্ট্রেও এখন পর্যন্ত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। ফলে এআই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিমূল্যায়িত বাজারদর ধরে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাষ্পীয় ইঞ্জিন কিংবা ইন্টারনেটের মতো বৈপ্লবিক প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর অর্থনীতির মূল ধারায় তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে ১০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত সময় লেগেছিল। এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিক অর্থনৈতিক রিটার্ন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিশ্ব শ্রমবাজারে এআইয়ের নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হিসাবরক্ষণ ও আইনি সহায়তার মতো অটোমেশন ঝুঁকিতে থাকা পেশাগুলোতে শিক্ষানবিশ বা নবীন কর্মীদের নিয়োগ প্রায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। এর পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে পিসি, গেমিং ল্যাপটপ এবং গৃহস্থালি সামগ্রীতে লেনোভো, গিগাবাইট বা ভিশনের মতো ব্র্যান্ডগুলো এআই প্রযুক্তি যুক্ত করে বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করলেও মূল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তা কতটা গতি আনবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগের অনুপাতে দ্রুত আয় না এলে প্রযুক্তি খাতে নতুন করে আর্থিক বুদ্বুদ বা ‘ফাইনান্সিয়াল বাবল’ তৈরির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশাল অবকাঠামো নির্মাণে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন না এলে কোম্পানিগুলো বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। তবে সাময়িক এই ঝুঁকি সত্ত্বেও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এক সময়ের রেলপথ বা ইন্টারনেটের মতো এআই অবকাঠামোও ভবিষ্যতে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com