কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে ইউনেস্কোয় বৈশ্বিক কাঠামোর প্রস্তাব করল বাংলাদেশ
10 October 2026 —
প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ ও এর নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সার্বজনীন বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রযুক্তিগত দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর অ্যালগরিদমভিত্তিক প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টেকসই প্রযুক্তিগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক এ ফোরামে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে আয়োজিত সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের ২২৫তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি কাতারের প্রতিনিধি নাসের বিন হামাদ আল হিনজাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেশনে বিশ্বজুড়ে এআই-চালিত ডিজিটাল রূপান্তরের চ্যালেঞ্জসমূহ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি সভায় উল্লেখ করেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সামঞ্জস্য রক্ষা করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান দায়িত্ব। মানবসম্পদের সুরক্ষা এবং নীতিগত ঝুঁকি এড়াতে ইউনেস্কোর এখতিয়ারভুক্ত ক্ষেত্রগুলোতে এখনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ ও ব্যবহারের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে এক ধরনের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
সম্মেলনে প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে গৃহীত আধুনিক রূপান্তরের চিত্র তুলে ধরা হয়। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য দূরীকরণ, বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ, ভর্তির হার বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক স্তর থেকেই শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে যে অগ্রাধিকার নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা অধিবেশনে উল্লেখ করা হয়।
একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ হিসেবে জাতীয় শিক্ষাক্রমে ‘ক্রীড়া’কে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। এই কাঠামোর অধীনে আয়োজিত যুব ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী সরাসরি যুক্ত হয়েছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া মাতৃভাষাকে মূল ভিত্তি ধরে বহুভাষিক শিক্ষার বিস্তার, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ তার দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে নারীর সার্বিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com