রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফিশন বিক্রিয়া শুরু, নতুন যুগে বাংলাদেশ
12 October 2026 —
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ও পারমাণবিক প্রকৌশলে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এর প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত উপায়ে পারমাণবিক বিভাজন বা ফিশন বিক্রিয়া সফলভাবে শুরু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম পরিপক্ব দেশের আন্তর্জাতিক ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে পদার্পণ করল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক বিজ্ঞানের জটিলতম ধাপ ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জনের পূর্বে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) গত ৮ অক্টোবর চুল্লিতে চেইন রিঅ্যাকশন বা শৃঙ্খল বিক্রিয়া পরিচালনার জন্য বি-২ সাব-স্টেজ লাইসেন্স অনুমোদন করে। এর ভিত্তিতে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্লাস ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াসকে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে এ বিক্রিয়া সক্রিয় করা হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে রিঅ্যাক্টরটি এর মোট তাপীয় সক্ষমতার মাত্র ১ শতাংশের কম শক্তিতে পরিচালনা করে সার্বিক প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
প্রকৌশলগত কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, এই ফিশন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন প্রকাণ্ড তাপশক্তি রিঅ্যাক্টরের বিশেষ সার্কিটের পানিকে উচ্চচাপের বাষ্পে রূপান্তর করবে। পরবর্তীতে ওই বাষ্পের গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে মূল টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হবে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কয়েক ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে, যার প্রথম পর্যায়ে তাপ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৭ শতাংশে পৌঁছাবে এবং পর্যায়ক্রমে তা জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্ত করা হবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফিশন বিক্রিয়া শুরুর পর থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন চুল্লির অভ্যন্তরীণ কন্ট্রোল রড, প্রেসার ভেসেল, কুল্যান্ট প্রবাহ ও তেজস্ক্রিয়তা নিরোধক ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক পরিবীক্ষণ চলবে। সকল কারিগরি পরীক্ষা সফল হলে এবং বায়রার চূড়ান্ত অনুমতি সাপেক্ষে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ট্রায়াল রান হিসেব জাতীয় সঞ্চালন লাইনে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে। পরবর্তী কয়েক মাস চুল্লির স্থিতিশীলতা ও লোড ধারণক্ষমতা যাচাই-বাছাই শেষে রূপপুরের প্রথম ইউনিটটি তার পূর্ণ সক্ষমতার ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাণিজ্যিক উৎপাদনে নিয়ে আসবে। এই বৃহৎ প্রকল্পের সাফল্যের পাশাপাশি দেশে ছোট আকারের মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) নির্মাণের নতুন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি রূপান্তরে ভূমিকা রাখবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com