ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারী ছাড়াল ২ কোটি: দ্রুত বাড়ছে ডিজিটাল লেনদেন
18 October 2026 —
বাংলাদেশে দ্রুত বাড়ছে স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন এবং এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, কিউআর কোডভিত্তিক কেনাকাটা ও ক্যাশলেস অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দেশের ব্যাংকিং খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে দেশে অ্যাপনির্ভর ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৭১ লাখ ৬৬ হাজার। তবে ২০২৪ সালের জুলাই শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজারে। অর্থাৎ মাত্র ১২ মাসে নতুন করে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ গ্রাহক স্মার্টফোন অ্যাপের আওতায় এসেছেন। একইসঙ্গে লেনদেনের পরিমাণেও বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে; জুলাই মাসে অ্যাপের মাধ্যমে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।
ডিজিটাল আর্থিক সেবায় গ্রাহক বৃদ্ধির পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চালু করা ‘বাংলা কিউআর’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তঃব্যাংক কোডভিত্তিক লেনদেনের সুবিধার্থে চালু হওয়া এই ব্যবস্থার ফলে যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ বা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে মুহূর্তেই কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাবে দ্রুত টাকা জমা হওয়ার সুযোগ থাকায় ছোট-বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানেই এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
গ্রাহকদের জনমিতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবহারে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুলাই শেষে অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে পুরুষ গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৬৭ লাখ ৭২ হাজার এবং নারী গ্রাহক ছিলেন ৩৮ লাখের বেশি। অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী ব্রাউজারভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারকারীর সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়ে ২৪ লাখ ৮ ৯ হাজারে নেমে এসেছে, যা নির্দেশ করে যে গ্রাহকেরা এখন ব্রাউজারের চেয়ে সুবিধাজনক মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, অতীতে অ্যাপভিত্তিক লেনদেনকে মূলত মোবাইল আর্থিক সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করা হতো। তবে বাংলা কিউআর চালু হওয়ার পর ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাসহ সব প্রতিষ্ঠানই সমন্বিত অ্যাপের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। যেসব ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপ ছিল না, তাদেরকেও এই আধুনিক ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়ায় লেনদেনের গতি ও পরিসর দুটিই দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপভিত্তিক সেবা ও বাংলা কিউআরের এই গতিশীল প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের ক্যাশলেস বা নগদহীন সমাজ গড়ার রূপকল্পকে বাস্তবে রূপ দিতে বড় সহায়তা করবে। স্মার্টফোননির্ভর এই সহজ লেনদেন ব্যবস্থা দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও আধুনিক করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com