ওয়ালটন হাই-টেকের লভ্যাংশ অনুমোদন: ১৮০% নগদ ও ১০% স্টক লভ্যাংশ চূড়ান্ত
17 October 2026 —
ওয়ালটন হাই-টেকের লভ্যাংশ অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমে দেশের ইলেকট্রনিক্স খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১৮০ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ প্রদান করতে যাচ্ছে। সম্প্রতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন শেয়ারহোল্ডাররা। বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতিতে বিদ্যমান নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এমন আকর্ষণীয় লভ্যাংশ প্রদান বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাপক সন্তোষ তৈরি করেছে।
ডিজিটাল মাধ্যমে আয়োজিত এই সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম। সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদানকালে তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং স্থানীয় বাজারের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও শক্তিশালী করপোরেট গভর্ন্যান্স ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণে কোম্পানি সফল আর্থিক ফলাফল অর্জন করেছে। শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় ওয়ালটন সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে এই ধারার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিনিয়োগকারীদের জন্য অধিক মূল্য সৃষ্টি করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম। তিনি উল্লেখ করেন, কার্যকর ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সময়োপযোগী বিপণন কৌশল এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের ফলেই আর্থিক সূচকের এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে। এজিএমে পরিচালকদের পুনর্নির্বাচন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্নিয়োগ এবং নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগসহ সকল এজেন্ডা শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিতে অনুমোদিত হয়।
ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আমদানিনির্ভরতা কমানো ও দেশীয় শিল্প স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে ওয়ালটন একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে উচ্চমানের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনের কাজ শুরু করছে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে তৈরি ব্যাটারি বৈদ্যুতিক যানবাহন, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন এবং বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সংরক্ষণে ব্যবহার করা যাবে, যা দেশের সামগ্রিক সবুজ জ্বালানি রূপান্তরে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে ওয়ালটন তাদের উৎপাদন কারখানায় দেশের সর্ববৃহৎ ভাসমান সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। বর্তমানে তাদের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ মেগাওয়াটে, যা কারখানার অভ্যন্তরীণ চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের পরিচিতি বাড়াতে ওয়ালটন ইতোমধ্যে বিশ্বের ৬৪টি দেশে রপ্তানি বাণিজ্য বিস্তার করেছে। সিই, ইউএল ও এনওএম-এর মতো আন্তর্জাতিক মানসনদ অর্জনের পাশাপাশি রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, কেবল ও লিফট রপ্তানি বাড়িয়ে বৈশ্বিক শীর্ষ ব্র্যান্ডে রূপ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয় এই সাধারণ সভায়।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com