সফটওয়্যার জালিয়াতি করে ১৬.৬২ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সিআইডির হাতে এজিএম গ্রেফতার
20 October 2026 —
প্রতিষ্ঠানিক হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার কারসাজি ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের সাড়ে ১৬ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পার্থ সারথী হালদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক সফটওয়্যার জালিয়াতি ও প্রযুক্তির বিশেষ অপব্যবহার করে ডিজিটাল নিরাপত্তা বলয় ভেঙে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানায় সানজি গ্রুপ কর্তৃপক্ষের দায়ের করা অর্থ আত্মসাৎ মামলার ভিত্তিতে এই ডিজিটাল ফোরেনসিক অভিযান পরিচালিত হয়। এর আগে রাজধানীর শান্তিনগর মোড় এলাকা থেকে এই অপরাধ চক্রের অন্যতম প্রধান সহযোগী সাইফুল ইসলাম ও সৈয়দ আরব আলীকে গ্রেফতার করেছিল সিআইডির আভিযানিক দল। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমের সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত পার্থ সারথী হালদার গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়েও সফটওয়্যারে টাকা জমার ভুয়া তথ্য ইনপুট দিতেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিকের পূর্ব-স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেকের প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে নিজের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করতেন। কেবল ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং প্রসেসিং ম্যানিপুলেশন ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি এককভাবেই বিভিন্ন সময়ে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
সিআইডির ফরেনসিক ও আর্থিক তদন্ত অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা সরাসরি ব্র্যাক ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংকে থাকা অভিযুক্তের নিজ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তিনি ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার টাকা সরাসরি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেন। এছাড়া একই কৌশল অবলম্বন করে সানজি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘পানামা সিএনজি কনভার্সন’ থেকেও ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।
সব মিলিয়ে গ্রাহকদের নগদ টাকা ও প্রাতিষ্ঠানিক চেকের অপব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রটি মোট ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সফটওয়্যারের নিরাপত্তার ত্রুটি ও দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ সংঘটনের কথা স্বীকার করেছে। এই বৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আর কোনো কর্মকর্তা বা বাইরের অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডির বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com