ডিজিটাল রূপান্তর কেবল অবকাঠামোয় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না: টেককানেক্ট সম্মেলনে বক্তারা
29 October 2026 —
বাংলাদেশে টেকসই ডিজিটাল রূপান্তর নিশ্চিত করতে কেবল টাওয়ার স্থাপন কিংবা ফাইবার অপটিক ক্যাবল সম্প্রসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও সহজ সেবা নিশ্চিত করাই মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত। মঙ্গলবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে এবং বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সহায়তায় দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে উদ্বোধনী ও স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সচিব তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ডিজিটাল রূপান্তরের আন্তর্জাতিক সূচকগুলোতে বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইন্টারনেটের সংযোগ গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে সাশ্রয়ী স্মার্ট ডিভাইস, ব্যবহারযোগ্য ডেটা প্যাকেজ এবং মাতৃভাষা বাংলায় ডিজিটাল সেবা উন্মুক্ত করা জরুরি। একজন শিক্ষার্থী যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে অনলাইন ক্লাস করতে পারেন কিংবা গ্রামীণ উদ্যোক্তারা যেন কোনো জটিলতা ছাড়াই অর্থনৈতিক লেনদেন চালাতে পারেন, তার ওপরই ডিজিটাল সংযোগের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকায় সম্মেলনে দুর্যোগসহনশীল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিরবচ্ছিন্ন ব্যাকআপ বিদ্যুৎ এবং দ্রুত নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষিত জরুরি দল গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, স্ট্যান্ডঅ্যালোন ৫জি বা ৬জি প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে তাড়াহুড়া না করে যৌক্তিক ব্যয় ও বাস্তব চাহিদার ওপর নির্ভর করে ধাপে ধাপে এগোনার বিষয়ে বক্তারা একমত পোষণ করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের বৈশ্বিক প্রভাব তুলে ধরে সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশকে কেবল আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির ভোক্তা হয়ে থাকলে চলবে না। দেশের নিজস্ব বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটাতে হবে। বিশেষ করে সরকারি ও নাগরিক সেবায় এআই ব্যবহারের সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি যেন মানুষের হাতেই থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারলে প্রযুক্তি খাতে জনগণের পূর্ণ আস্থা অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করা হয়।
অনুষ্ঠানের মূল অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রযুক্তি রোডম্যাপ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইদা আফরোজ। এতে সভাপতিত্ব করেন হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ও হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উ জি জেসন। দিনব্যাপী সম্মেলনে শিল্প খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরবর্তী প্রজন্মের সংযোগ এবং বৈশ্বিক এআই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকারি নীতিনির্ধারক, টেলিকম অপারেটর ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরিতে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশীদারত্বের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে সম্মেলন সমাপ্ত হয়। সরকারের অনুকূল নীতিমালা এবং বেসরকারি খাতের মানসম্মত বিনিয়োগই দেশকে বিশ্বমঞ্চে স্বাবলম্বী করে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com