Marketing

বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা

wnb news 1793685832 35fgRL

দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। সম্প্রতি জাপান, সিঙ্গাপুর, সুইডেন এবং অস্ট্রেলিয়ার উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এসব আন্তর্জাতিক বৈঠকে আধুনিক প্রযুক্তি অবকাঠামো নির্মাণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নাগরিকবান্ধব ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।

জাপানের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্পে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো এবং মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে পৃথক আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়। পাশাপাশি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন ও নতুন একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার কথা জানানো হয়েছে।

প্রযুক্তিগত দক্ষতার স্থানান্তর ও ই-কমার্সের প্রসারে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা শেষ হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লোকের বৈঠকে দেশের ডাকঘর নেটওয়ার্ককে আধুনিক লজিস্টিকস ও পার্সেল ডেলিভারি কেন্দ্রে রূপান্তরের ওপর তাগিদ দেওয়া হয়। সরকারি সেবায় ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তার, রাজস্ব আায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশাসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর প্রয়োগে সিঙ্গাপুর প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকসের সঙ্গে এক ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ‘ওয়ান আইডি-ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ, নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা এবং অনলাইন আর্থিক লেনদেনের সুরক্ষার প্রযুক্তিগত দিকগুলো গুরুত্ব পায়। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালার উদ্দেশ্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করে অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ করা। সুইডেন বাংলাদেশের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো উন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

এছাড়া প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী খাতের আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশের আইসিটি বিভাগ। বৈঠকে দুই দেশের টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পারস্পরিক সহযোগিতা অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়েও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

কূটনৈতিক ও কারিগরি ক্ষেত্রে এসব বহুমুখী অংশীদারিত্ব কার্যকর হলে বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের প্রযুক্তি খাত আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। সরকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সমন্বিত প্রয়াস দ্রুত একটি টেকসই, নিরাপদ ও প্রবৃদ্ধিমুখী ডিজিটাল অর্থনীতি গঠনে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *