অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করল এনবিআর: আওতাভুক্ত ১১ খাত
11 October 2026 —
কর প্রশাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি শিল্প ও সেবা খাতের জন্য অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই নির্দেশনার ফলে সনাতন বা কাগজেরপত্রের মাধ্যমে দাখিলের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি ‘ই-ভ্যাট পোর্টাল’ ব্যবহার করে রিটার্ন জমা দিতে হবে। এনবিআরের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক ই-ভ্যাট রিটার্নের আওতায় আসা ১১টি খাত হলো—ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), বিমা খাত, মোবাইল ফোন সেট প্রস্তুত ও আমদানি, ওষুধ শিল্প, পানীয়, সিগারেট, সিমেন্ট, টাইলস, এমএস পণ্য এবং রং ও বার্নিশ প্রস্তুতকারক ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। এসব খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে ই-ভ্যাট ব্যবস্থার অধীনে তাদের মাসিক হিসাব বিবরণী জমা দিতে হবে।
রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কোনো নিবন্ধিত করদাতা প্রতিষ্ঠান যদি এসব নির্দিষ্ট পণ্য উৎপাদন বা সেবা সরবরাহের পাশাপাশি অন্য কোনো বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড কিংবা সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদের সামগ্রিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই আদেশ জারির মাধ্যমে পূর্বে অনলাইনে দাখিলপত্র পেশসংক্রান্ত যত নির্দেশনা ছিল, তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) আজিজুর রহমানের সই করা এই আদেশে উল্লেখ করা হয়, কর ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং স্বয়ংকীয় ডেটা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এনবিআরের মূল লক্ষ্য। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কর তথ্য সংরক্ষিত থাকলে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা সহজ হবে এবং করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে। এর ফলে কর আদায় প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত হবে বলে মনে করছেন রাজস্ব বিশেষজ্ঞরা।
সরকারের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর করার অংশ হিসেবেই ই-ভ্যাট পোর্টালে এই বাধ্যবাধকতা আনা হয়েছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজস্ব নীতির বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় যেকোনো সময় এই তালিকায় নতুন খাত যুক্ত করার কিংবা বাদ দেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার তাদের হাতে সংরক্ষিত থাকবে। আগামী দিনে অন্যান্য ব্যবসা খাতকেও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল রিটার্ন ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com