Marketing

আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্য নিয়ে তোলপাড়: সিদ্ধান্ত হবে প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে

image (2)

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পুলিশ প্রধানের এসব মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। এই পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি নতুন শাখা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সেখানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ প্রয়োগ করবে। একই অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, মাদকের টাকা না পেয়ে সাংবাদিকরা পুলিশের অকার্যকারিতা নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেন। পুলিশ প্রধানের এসব বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পরই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

আইজিপির বক্তব্যের পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি ব্যাখ্যামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতেই আইজিপি আক্ষরিক অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো।

বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া, তাদের ওপর চড়াও হওয়া নয়। আইজিপির এই বক্তব্য দেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি এবং বিগত শাসনামলের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয়ের সংস্কৃতিকে পুনরায় উসকে দেয়। অন্যদিকে, ছাত্রশিবির নেতারা এই বক্তব্যকে আইনের শাসনের ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়ে আইজিপিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

অপরদিকে, সাংবাদিকদের পেশাগত সততা নিয়ে ঢালাও মন্তব্য করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অপরাধ সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ্ এক যৌথ বিবৃতিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। সংগঠনটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া পুরো সংবাদমাধ্যমকে অভিযুক্ত করা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ব্যাহত করে। দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে দেশের সব সাংবাদিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সার্বিক বিষয়ে মঙ্গলবার সরকারের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশ প্রধানের বক্তব্যের বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফর শেষ করে জাপান থেকে দেশে ফেরার পর সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং দেশে আইনের শাসন বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *