Marketing

পোশাক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শ্রমিকের বিকল্প হবে না: বিজিএমইএ

wnb news 1789679702 91wQ0j

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেলেও তা কোনোভাবেই মানব শ্রমিকের বিকল্প হয়ে উঠবে না বলে আশ্বস্ত করেছে তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া সত্ত্বেও দেশের পোশাক শিল্পের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে শ্রমঘন বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। রাজধানী ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই বার্তা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্যিক ও শিপিং নথিপত্র প্রস্তুত করা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে বিপণন জোরদার করা, মার্চেন্ডাইজিং এবং পোশাকের নতুন নকশা তৈরির কাজে এআই সফলভাবে ভূমিকা রাখছে। অতীতে বিদেশি ক্রেতাদের পছন্দ ও অনুমোদনের জন্য ফিজিক্যাল স্যাম্পল পাঠাতে প্রচুর সময় ও কুরিয়ার খরচ হতো। এখন এআইভিত্তিক ডিজিটাল অনুমোদনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত ও সাশ্রয়ী উপায়ে সম্পন্ন হচ্ছে।

শিল্প খাতে প্রযুক্তির ধরন স্পষ্ট করতে গিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি স্বয়ংক্রিয়করণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সূক্ষ্ম পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে যেকোনো প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকেই ঢালাওভাবে এআই বলা হলেও সব অটোমেশন এআই নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি সোয়েটার কারখানার কথা তুলে ধরেন, যেখানে আগে হস্তচালিত মেশিনে সোয়েটার বোনা হতো, অথচ এখন প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে একজন শ্রমিক একাই চার থেকে ছয়টি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় মেশিন দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারছেন। এতে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বেড়েছে।

পোশাক খাতের টেকসই কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বিজিএমইএ প্রধান জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষতা বৃদ্ধি ও কস্ট-ইফেক্টিভ বা ব্যয়সাশ্রয়ী থাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সক্ষমতা বজায় রাখাই বড় বিষয়। যদি ম্যানুয়াল বা হস্তচালিত পদ্ধতিতে ব্যবসা বেশি সাশ্রয়ী হয়, তবে সেটিই বজায় রাখা হবে। তবে এআই প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে শিল্প রফতানি বাড়লেও কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের কর্মসংস্থান যেন হঠাৎ কমে না যায়, সেদিকে মালিকপক্ষ সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত এই বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে ‘বাটেক্সপো ২০২৬’, হংকং রোডশো এবং অভ্যন্তরীণ পোশাক খাতের নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ মনে করেন, পরিবেশবান্ধব ও সবুজ কারখানার রূপান্তরের পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ালে দেশীয় পোশাক খাত বিশ্বমঞ্চে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *