Marketing

প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব: ফানুসের আলো ও বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত

wnb news 1792973101 vgZsEZ

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শান্তি-সম্প্রীতির বার্তা এবং উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব। রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার বাড্ডা বুদ্ধ মন্দির প্রাঙ্গণ এবং বান্দরবানের রাজার মাঠে হাজার হাজার প্রদীপের আলো ও রঙিন ফানুসে ছেয়ে যায় আকাশ। বিশ্বশান্তি, অহিংসা ও মানবজাতির সার্বিক মঙ্গল কামনায় সব বয়সের পুণ্যার্থীরা এই আনন্দঘন আয়োজনে অংশ নেন।

রাজধানীর বাড্ডা বুদ্ধ মন্দিরে সকাল থেকেই ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দিনব্যাপী আচারের মধ্যে ছিল প্রাতঃকালীন প্রার্থনাসভা, বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ এবং প্রদীপ প্রজ্বলন। সন্ধ্যার নামতেই শত শত রঙিন ফানুস ওড়ানো হয়। ফানুসের মায়াবী আভায় রঙিন হয়ে ওঠে পুরো মন্দির এলাকা ও আশপাশের আকাশ। উৎসব প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে এক সম্প্রীতির আবহ তৈরি হয়।

অন্যদিকে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী প্রবারণা পূর্ণিমা, যা স্থানীয়ভাবে ‘ওয়াগ্যেই পোয়ে’ নামে পরিচিত। তিন মাসের বর্ষাবাস পালন শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে পাহাড়ি পল্লিগুলোতে উৎসবের নতুন আবহ তৈরি হয়েছে। জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

বান্দরবানের ধর্মীয় আচারের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে সমবেত প্রার্থনা, বুদ্ধপূজা ও বিশেষ দানানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ময়ূর আকৃতির একটি সুসজ্জিত রথ প্রস্তুত করা হয়েছে। বিকেলে এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাঙ্গু নদীতে বিসর্জন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নিচ্ছেন হাজারো পাহাড়ি নারী-পুরুষ ও পর্যটক।

বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, প্রবারণা পূর্ণিমা পালন ভিক্ষু ও গৃহী উভয়ের আত্মশুদ্ধি এবং পাপমোচনের পথ প্রশস্ত করে। এটি কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও অহিংসার চেতনা নতুন করে সঞ্চার করে। পুণ্যার্থীরা জানান, আকাশজুড়ে ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে তারা হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান।

যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকার মন্দির প্রাঙ্গণ এবং বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ধর্মীয় ঐতিহ্য, রঙিন ফানুস ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মেলবন্ধনে এবারের উৎসব দেশের সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *