মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত: সৌরবিদ্যুৎ ও সরকারি ক্রয় আইন অনুমোদন, ২০২৭ সালে ছুটি ২২ দিন
3 November 2026 —
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্রুত বিস্তার, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে হংকংয়ের সাথে পারস্পরিক আইনি সহযোগিতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খসড়া আইন ও প্রস্তাব নীতিগত এবং চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবিত বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার ত্বরান্বিত করতে সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পূর্বে জারি করা অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর করতে জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে বিল আকারে এটি উত্থাপন করা হবে। এছাড়া, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় সরকারি ক্রয় (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। নতুন এ সংশোধনীতে নারী, নতুন উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার পাশাপাশি জরুরি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদন করা হয়েছে। আগামী ২০২৭ ক্যালেন্ডার বর্ষের জন্য মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলেও তার মধ্যে ৭ দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্রবার ও শনিবার) পড়ার কারণে কার্যকর সরকারি ছুটি থাকবে ২২ দিন। অনুমোদিত ২৯ দিনের মধ্যে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব এবং পার্বত্য অঞ্চলসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব উদযাপনের জন্য সরকারি কর্মচারীরা নির্ধারিত নিয়মে ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ও অর্থপাচার প্রতিরোধে দ্বিপাক্ষিক আইনি সহযোগিতা জোরদারে হংকংয়ের সাথে একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ‘ফৌজিদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তা সংক্রান্ত চুক্তি’ শীর্ষক এ সমঝোতার ফলে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি হংকংয়ে আত্মগোপন করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো অপরাধী প্রত্যর্পণ বা বন্দী বিনিময় চুক্তি নয়, বরং নিখাদ আইনি তদন্তে সহযোগিতার একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো।
এর আগে দিনের শুরুতে অনুষ্ঠিত অপর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশনা দেন। তিনি রাজধানী ঢাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুরনো ভবন চিহ্নিতকরণ, ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে নতুন ইমারত নির্মাণ এবং রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com