গ্রামীণফোনের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু সিলেট ডেটা সেন্টারে: দেশের বৃহত্তম পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
31 October 2026 —
দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন তাদের সিলেট ডেটা সেন্টারে ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার একটি নতুন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র উন্মোচন করেছে। দেশের যেকোনো ডেটা সেন্টারে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সর্ববৃহৎ অবকাঠামো। এই গ্রামীণফোনের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজস্ব পরিচালন কার্যক্রমে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এক তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করল।
প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি জেডটিই (ZTE) বাংলাদেশের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। গ্রামীণফোনের সিলেট ডেটা সেন্টারের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৪৫০টি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই গ্রিন টেকনোলজির সাহায্যে ডেটা সেন্টারটি থেকে বছরে ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে প্রতি বছর বায়ুমণ্ডলে প্রায় ১৮৮ টন ক্ষতিকর কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস পাবে, যা কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিবেশ নীতি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালকে ভিত্তি বছর ধরে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নিজস্ব পরিচালনা কার্যক্রম থেকে নির্গত মোট কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিলেটে নবনির্মিত এই নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প সেই নির্দিষ্ট মাইলফলক অর্জনের পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইন্টারনেটের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উপায়ে অবকাঠামো পরিচালনার দিকে জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, দেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল যাত্রায় শুধু টেকসই ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী নেটওয়ার্কই যথেষ্ট নয়, বরং পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা আবশ্যক। এই গ্রামীণফোনের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে কোটি কোটি গ্রাহকের নিরবচ্ছিন্ন সেবায় নিয়োজিত ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কীভাবে পরিবেশগত প্রভাব কমানো যায় তার এক বাস্তব উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশগত সুফল নিশ্চিত করতে তারা উদ্ভাবনী সব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবেন।
যৌথ উদ্যোগ সম্পর্কে জেডটিই বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাও জুন্যং জানান, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ডিজিটাল অবকাঠামো গঠনে এই যৌথ প্রকল্প শিল্পখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন সৌর সমাধান ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্প পর্যায়ে জ্বালানি সাশ্রয় এবং কার্বন নির্গমন হ্রাস করা এখন অনেকটাই সহজ ও কার্যকর হয়ে উঠেছে।
সিলেটে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার আবুল কাসেম মহিউদ্দিন আল-আমিন, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক ও চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণফোন ব্যবসায়িক অগ্রগতি ও পরিবেশ সুরক্ষার সঠিক সমন্বয় ঘটিয়েছে, যা দেশের সার্বিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সবুজ শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে গতি আনবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com