সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে মাউশির নির্দেশনা: কড়াকড়ির নির্দেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
18 September 2026 —
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে মাউশির নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে তদারকি জোরদার করতে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন তাগিদ পাঠিয়েছে মাউশি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
প্রেরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রশাসনের অধীন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সরকারি নিয়মাবলী সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত আছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে হবে। একই সঙ্গে তাদের ডিজিটাল কার্যক্রম তদারকিতে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পর্যন্ত কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তার সার্বিক তথ্য আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (সংশোধিত সংস্করণ)’ এবং গত ১৭ আগস্ট জারি করা মাউশির পূর্ববর্তী নির্দেশনার আলোকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পূর্বের নির্দেশনার তথ্য উল্লেখ করে জানানো হয়, শিক্ষা পরিমণ্ডলে যুক্ত ব্যক্তিদের সোশ্যাল মিডিয়া গতিবিধি সরকারি নির্দেশিকার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলা হয়েছিল। যদি অনলাইনে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ, আপত্তিজনক পোস্ট কিংবা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী কোনো কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়, তবে পর্যাপ্ত প্রমাণসহ তা অবিলম্বে তদারকি কমিটির আহ্বায়কের কাছে প্রতিবেদন আকারে পেশ করার নির্দেশ রয়েছে।
অধিদপ্তরের নতুন এই চিঠিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট দুটি বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশিকা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে কি না এবং দ্বিতীয়ত, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নজরদারি চালাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত সব তথ্য নির্দিষ্ট ইমেইল ঠিকানায় মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক টিপু সুলতানের দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।
মাউশি কর্তৃপক্ষের এই জোরালো নজরদারির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষা প্রশাসনের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণের বিকাশ ঘটানো। অধিদপ্তর মনে করে, মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com