চুয়েটে একাডেমিক শাটডাউন: ভিসি রুটিন দায়িত্ব ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি
2 November 2026 —
চুয়েটে একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে অন্য একজন শিক্ষককে সাময়িক রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) দিনব্যাপী এই শাটডাউন পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির কারণে ক্যাম্পাসে সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনকারীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে ঢাকা সফরে যাচ্ছেন চুয়েটের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফ উল আলম। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেনকে দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) এক জরুরি ইমেইল বার্তার মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়, যা উপাচার্যের অনুপস্থিতি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পর রোববার সন্ধ্যায় এক জরুরি বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিবৃতিতে তারা জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও একাডেমিক অচলাবস্থার পর নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষাজীবনের কথা চিন্তা করে তারা ক্লাসে ফিরেছিলেন। তবে নবাগত উপাচার্যকে তারা শুরু থেকেই বর্জন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে এবং তাদের দাবিকে তোয়াক্কা না করে অন্য কারও মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব চালানোর এই চেষ্টা তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
এর আগে একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। প্রথম বর্ষ থেকে শুরু করে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়ে আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। সভা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে শেষ হয়। মিছিলে শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সালাহ্ মোহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে জোর স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারী চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহতাব হক ও জুলকারনাইন মিহাদ জানান, ইউজিসির কমিটির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠকে কোনো সন্তোষজনক সমাধান মেলেনি। টানা ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে উপাচার্য ইস্যুতে সংকট চললেও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমকে ফেরানো না হওয়া পর্যন্ত এই একাডেমিক আন্দোলন থামবে না। রুটিন দায়িত্ব পালনকারী কোনো কর্মকর্তার অধীনে তারা কোনো ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।
ক্যাম্পাসে বিদ্যমান এই অচলাবস্থার কারণে চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সেশনজটের ঝুঁকিতে পড়ছে। দ্রুততম সময়ে উপাচার্য পদের জটিলতা নিরসন করে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com