ঢাকায় এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ সম্মেলন শুরু: ফাইভজি প্রসার ও সিক্সজি প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা
17 September 2026 —
ঢাকায় এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ সম্মেলন (এডব্লিউজি-৩৭) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেতার যোগাযোগ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তির বিকাশ সাধনে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির (এপিটি) তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আয়োজনে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
সম্মেলনের মূল ভাবনায় বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান তৈরি এবং টেলিযোগাযোগ খাতের গুণগত পরিবর্তন প্রাধান্য পায়। উদ্বোধনী বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উল্লেখ করেন যে, দেশে বর্তমানে ১৯ কোটি মোবাইল সংযোগ এবং শক্তিশালী ফোরজি অবকাঠামো বিদ্যমান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের মূল চ্যালেঞ্জ কেবল সংযোগ বৃদ্ধি করা নয়, বরং সেবার উচ্চ মান, সাশ্রয়ী মূল্য এবং নিরবচ্ছিন্ন নির্ভরতা নিশ্চিত করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প সক্ষমতা বাড়িয়ে বৈশ্বিক প্রযুক্তির বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দূরদর্শী স্পেকট্রাম নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি খাতের সাথে অভিযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। তিনি বলেন, সরকারি সংস্থা, নীতিপ্রণেতা এবং শিল্প খাতের যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। অপরদিকে, এপিটি মহাসচিব মাসানোরি কোন্দো জানান, এই আন্তর্জাতিক আলোচনার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং আল্ট্রা ওয়াইডব্যান্ডের সমন্বয়ে সিক্সজি গবেষণাকে ত্বরান্বিত করা হবে। এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপের সভাপতি দেয়জুং কিম যোগ করেন, বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে দ্রুত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের আইএমটি-২০৩০ কাঠামোর অধীনে আধুনিক চাহিদা মোকাবিলার কোনো বিকল্প নেই।
আন্তর্জাতিক কারিগরি আলোচনায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে একটি মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: এমদাদ উল বারী (অব.)। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ ধরনের বৈশ্বিক ফোরামের আয়োজন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের কার্যকর উপস্থিতিকে আরও সুসংহত করবে। পাঁচ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এপিটি সদস্যভুক্ত বিভিন্ন দেশের ৩৯৫ জন প্রতিনিধি সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করছেন। পুরো সম্মেলন জুড়ে মোট ৫২টি বিশেষ টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ফাইভজি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, ভবিষ্যৎ সিক্সজি রূপরেখা, দক্ষ স্পেকট্রাম শেয়ারিং, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রেলওয়ে ভিত্তিক আধুনিক বেতার প্রযুক্তির নানা কারিগরি দিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় প্রযুক্তির বিকাশ এবং বেতার তরঙ্গের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় আয়োজিত এই এডব্লিউজি-৩৭ প্রোগ্রাম অত্যন্ত অর্থবহ অবদান রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি গ্রহণ ও নীতিগত সংস্কারে এই সম্মেলন বাংলাদেশকে আগামী দিনের আধুনিক ও টেকসই টেলিকম অবকাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com