Marketing

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ: দৃষ্টিহীন শাকিলের চাকরি ও মানবিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ

wnb news 1789592589 6QSjuG

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ ও মানবিক হস্তক্ষেপে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উচ্চতর প্রকল্পে ‘সেকশন অফিসার’ পদে নিয়োগ পেয়েছেন নওগাঁর অদম্য দৃষ্টিহীন তরুণ শাকিল হোসেন। সরকারি চাকরির ভাইভা বোর্ড থেকে বারবার খালি হাতে ফিরে আসার পর সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁর মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়। গত মঙ্গলবার ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে নবম গ্রেডের এ চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ জুবায়েরের বোন জেসমিনের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রশাসনিক সংস্কারে পদবির আগে ‘মাননীয়’ বর্জন ও ডিজিটাল হাজিরা চালুর মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা শাকিল শৈশব থেকেই শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। সকল বাধা পেরিয়ে শ্রুতিলেখকদের সহযোগিতায় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তবে পড়াশোনা শেষে লিখিত পরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ হলেও কেবল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে ভাইভা বোর্ড থেকে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের মাধ্যমে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করা হলে, মাত্র সাত দিনের মধ্যে শাকিলের যোগ্যতার মূল্যায়ন করে চাকরি প্রদান করা হয়।

মানবিক সহমর্মিতার অন্য একটি উদ্যোগে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে লালমনিরহাটে শহিদ জুবায়ের হোসেনের বোন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসমিন আকতারের চিকিৎসা-পরবর্তী স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়া হয়েছে। ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত জেসমিনের সফল অস্ত্রোপচারের পর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে সরকারের প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়ে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে জেসমিনের শারীরিক অবস্থার আশাব্যঞ্জক উন্নতি ঘটছে।

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে চালু করা হয়েছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী নিয়ম। নথিপত্র ও দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে পদবির আগে ‘মাননীয়’ বা ‘মহামান্য’-এর মতো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের চর্চা পরিহার করার পরিপত্র জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক গুরুত্ব বোঝাতে সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যা পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে দায়িত্বশীলতা ও সময়ানুবর্তিতাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের আমূল পরিবর্তনে গবেষণানির্ভর কর্মপন্থা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও প্রযুক্তি খাতের সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা জোরদারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা পরিহার করে জনসেবা, মানবিক মূল্যবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার এ ধারাকে দেশের প্রশাসনিক সংস্কারের একটি শুভ সূচনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Published with WpNewblogwww.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *