ফুডপান্ডা জালিয়াতি মামলা: গ্রেফতারি পরোয়ানার পরই হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন এমডিসহ ৫ কর্মকর্তা
27 September 2026 —
ফুডপান্ডা জালিয়াতি মামলা ও কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার পরপরই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন লাভ করেছেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত থেকে পরোয়ানা জারির পর উচ্চ আদালতে আবেদন করা হলে হাইকোর্ট তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আম্বারিন রেজা, সহ-প্রতিষ্ঠাতা জুবায়ের সিদ্দিকীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
মামলার এজাহার ও আইনি নথিসূত্রে জানা যায়, ই-কমার্স ও কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডা এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সফটওয়্যার থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ডেটা মুছে ফেলা, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) চালান তৈরির অভিযোগ ওঠে। গুলশান থানা পুলিশ দীর্ঘ এক বছর তদন্ত চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ জালিয়াতি ও প্রতারণার দণ্ডবিধিতে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলায় নাম থাকা অন্য কর্মকর্তারা হলেন পান্ডামার্টের পরিচালক মো. তাবরেজ খান, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক এবং সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজেদুল হক।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ এবং ‘আইপিএলই ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক’-এর স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে পৃথক চারটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সাল থেকে পান্ডামার্টের অনুকূলে ক্রয়াদেশ অনুযায়ী নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী ও গৃহস্থালি পণ্য সরবরাহ করা হলেও কোটি কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ না করে নামমাত্র অর্থ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কোনো নোটিশ ছাড়াই পণ্য নষ্টের অশুভ অজুহাতে একই দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকায় জাল স্বাক্ষরে পণ্য ফেরতের ভুয়া হিসাব দেখানো হয়।
আইনি পরোয়ানা জারির পর ফুডপান্ডার সিস্টার কনসার্ন ডেলিভারি হিরো স্টোরস (ডিএইচ স্টোরস) এক বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে। তারা দাবি করে, দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল এবং পুরো বিষয়টি একটি সাধারণ বাণিজ্যিক পাওনা সংক্রান্ত বিরোধ। বাদীর কাছে প্রতিষ্ঠানের পাওনা অর্থ ও চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলা থাকায় পাল্টা হয়রানি করতেই শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সামান্য বাণিজ্যিক বা চুক্তিভিত্তিক দ্বিমতকে অহেতুক ফৌজদারি মামলার রূপ দিলে তা দেশীয় ব্যবসায়িক পরিবেশ ও বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগে (এফডিআই) বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কোনো অপরাধমূলক দায় ছাড়া এ বিরোধের প্রকৃত সত্য আদালতে তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার অধীন রয়েছে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com