Marketing

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস: সরকারি কর্মচারীসহ ৭ জন গ্রেপ্তার, ১ জনের কারাদণ্ড

wnb news 1792994801 5xkGpC

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাঁচ কর্মচারীসহ চক্রের মোট সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৩)। রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে স্মার্টফোনে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠানোর চেষ্টার সময় রেশমা আক্তার নামে এক পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের বাছাই পরীক্ষা চলাকালে ডিজিটাল চ্যাট প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সূত্র ধরে পরিচালিত অভিযানে এ জালিয়াতি চক্র উন্মোচিত হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, চক্রটি ডিজিটাল সংযোগ ও আধুনিক স্মার্টফোনকে হাতিয়ার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং লিখিত উত্তর সরবরাহ করত। তারা ব্যাংক চেক, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও চুক্তির মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। কাওরান বাজারে ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক জানান, ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই ডিজিটাল জালিয়াত চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মচারীরা রয়েছেন। এদের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর, এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া প্রতারণায় সহায়তাকারী হিসেবে মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন নামের আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।

অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে অপকর্মের কাজে ব্যবহৃত আটটি আধুনিক স্মার্টফোন, এক সেট প্রশ্নপত্র, ১১৬টি ১০০ টাকার স্ট্যাম্প, ৪টি ৫০ টাকার স্ট্যাম্প, বিভিন্ন পরীক্ষার ১৯ পাতা প্রবেশপত্র, ১০টি মূল সনদপত্র এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ৪৮ পাতার চেকের বহি জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ডিভাইসের ডিজিটাল ফরেনসিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরীক্ষা শুরুর আগেই মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে চক্রটি প্রশ্নপত্রের ছবি সংগ্রহ করে উত্তর তৈরি করত এবং পরে তা প্রার্থীদের কাছে পাঠাত।

উল্লেখ্য, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার পরীক্ষার্থীর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মিললে পূর্বেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে এবং মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই অপতৎপরতার মূল উৎসের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *