হাই-টেক উৎপাদন ও আইসিটি খাতের উন্নয়নে জাপানের ২৯৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ, ৬ চুক্তি সই
2 November 2026 —
টোকিও ও ঢাকা: দেশের হাই-টেক উৎপাদন ও আইসিটি খাতের সামগ্রিক আধুনিকায়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে ২৯ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ চুক্তি এবং ৬টি বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় নথি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরকালে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা ও ঋণ প্রতিশ্রুতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সফটওয়্যার রপ্তানি, সেমিকন্ডাক্টর নকশা এবং আধুনিক শিল্পায়নে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হলো।
সফরে স্বাক্ষরিত নথিগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ খাতের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হলো ‘স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ (ইএসডিপি) সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক। এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের আইটি ও প্রকৌশল গ্র্যাজুয়েটদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড আর্কিটেকচার, ডেটা সায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশনে জাপানি শিল্পমানের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ শেষে এসব দক্ষ কারিগরি পেশাজীবী সরাসরি জাপানের প্রযুক্তি বাজারে কর্মসংস্থানের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ পাবেন, যা দেশের প্রযুক্তিভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের মানোন্নয়ন এবং হাই-টেক উৎপাদন ও আইসিটি খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করতে জাপানের মেটি (METI) এবং বাংলাদেশের ইআরডি-র মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর সঙ্গে ১০ কোটি ৮ লাখ মার্কিন ডলারের বিশেষ ঋণ যুক্ত রয়েছে, যা হাই-টেক পার্ক, সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন হাব, টেলিকম ডেটা সেন্টার ও ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাব তৈরিতে ব্যবহৃত হবে। সমন্বিত ডিজিটাল ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টির ফলে জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে গবেষণা ও শিল্প কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত হবে।
অন্যদিকে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল সংযোগ বিস্তৃত করতে ১৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন ঋণের পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তি, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি বিনিময় সম্পর্কিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উপকূলে নজরদারি বাড়াতে বিশেষ অনুদান এবং পরিবেশগত সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এ উদ্যোগগুলো দেশের ফ্রন্টলাইন ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের গতি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।
এদিকে বাংলাদেশ সফর ও সাম্প্রতিক প্রযুক্তি সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশকে প্রযুক্তি পণ্য আমদানিকারক থেকে নিজস্ব মেধা ও গবেষণার ভিত্তিতে উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যমাত্রায় জাপানের এই নতুন বিনিয়োগ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com