এআই মার্কেটিংয়ে মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব: ঢাকায় ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরাম অনুষ্ঠিত
1 November 2026 —
এআই মার্কেটিং বা বিপণনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক ব্যবহারের যুগে প্রযুক্তির সক্ষমতার সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও ভোক্তার আস্থার সমন্বয় ঘটানোর বার্তা নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরাম ৬.০’। রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি মার্কেটিং নেতা, শিক্ষাবিদ ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা দায়িত্বশীল এআই ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন। ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন মার্কেটিং: হিউম্যান + টেক’ প্রতিপাদ্যে যৌথভাবে এ আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম।
সম্মেলনের অন্যতম মূল আকর্ষণে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন আধুনিক বিপণননীতির প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ফিলিপ কটলার। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবসার দক্ষতা বাড়াতে এবং গ্রাহকদের চাহিদা বুঝতে সহায়তা করে; তবে মার্কেটিংয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে মানুষের বিচারবুদ্ধি, সৃজনশীলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কেন্দ্রে রাখতে হবে। প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসার সাফল্য মাপতে এআইয়ে বিনিয়োগ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা হারমাওয়ান কারতাজায়া নতুন পণ্য ও বাজার তৈরির মাধ্যমে টেকসই প্রতিযোগিতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কেবল মুনাফা অর্জন নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিক ব্যবসাচর্চার মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করাই বিপণনের প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। সম্মেলনে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের ৫৪টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর সমর্থনে ‘দ্য ঢাকা ডিক্লারেশন: মার্কেটিং ফর গ্লোবাল গুড—ওয়াই ২০৩০ অ্যান্ড বিয়ন্ড’ গৃহীত হয়, যা বৈশ্বিক কল্যাণে দায়িত্বশীল বিপণনচর্চার অঙ্গীকার তুলে ধরে।
ফোরামের দ্বিতীয় দিনে ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ ফরহাত আনোয়ার এআইয়ের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব এবং রূপান্তরের অনিবার্য বাস্তবতা তুলে ধরেন। প্যানেল আলোচনাগুলোতে উঠে আসে কীভাবে সাশ্রয়ী এআই সরঞ্জাম ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।
দুই দিনের এই সম্মেলনে মোট ১০টি মূল বক্তব্যের অধিবেশন, দুটি কেস স্টাডি ও দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে গুগল, আফ্রিকান ও ইউরোপিয়ান মার্কেটিং কনফেডারেশনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা মনে করেন, নৈতিকতার ভিত্তি এবং মানবিক তদারকি নিশ্চিতের মাধ্যমেই কেবল এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের মূল উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে টাইটেল পার্টনার হিসেবে ছিল ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি এবং সহযোগিতায় ছিল এসিআই মটরস লিমিটেড। সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক এই ফোরাম প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতে বিপণন পেশাকে সুসংহত ও মানবিক রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com