ব্যাংকিং খাত সংস্কারে রাজনীতি ও ব্যবসা আলাদা করার জোর দাবি
5 October 2026 —
ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও অর্থ খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের ব্যাংক ব্যবসাকে রাজনীতি ও ব্যক্তিগত ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করার জোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এই সুপারিশ পেশ করা হয়। বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম দূর করতে পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ ঋণ অনুমোদন ক্ষমতা বাতিলসহ একাধিক কঠোর সংস্কার রূপরেখা উত্থাপিত হয়।
নীতিনির্ধারণী এই সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে প্রস্তাবের বিস্তারিত তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও অর্থ কমিটির সদস্য সাইফুল আলম। তিনি জানান, দেশের ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিতে বর্তমানে কার্যকর ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে কোনো একক পরিবার বা গোষ্ঠীর হাতে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব রোধের সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ঋণ লোপাটকারী খেলাপিদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা এবং দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জোর দাবি জানানো হয়। সাইফুল আলম উল্লেখ করেন, পরিচালনা পর্ষদের হাতে ঋণ অনুমোদনের বিশেষ ক্ষমতা থাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। তাই এই ক্ষমতা বাতিল করে কঠোর নিরপেক্ষ মানদণ্ডে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ব্যাংকিং খাত সংস্কার সংক্রান্ত এসব প্রস্তাবকে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং ইতিবাচক বলে আখ্যায়িত করেছেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং আর্থিক খাতের পুনর্বিন্যাসে এসব সুপারিশের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যাংকিং খাতে তৈরি হওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদার ব্যবস্থাপনা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উত্থাপিত এসব সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের ঋণ বণ্টন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং আর্থিক খাতে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনর্বাসিত হবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com