কুড়িগ্রামে ট্রাক্টরচাপায় শিশু নিহত: এক লাখ টাকায় আপসের অভিযোগ
1 November 2026 —
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বেপরোয়া গতিতে আসা বালুভর্তি ট্রাক্টরচাপায় শিশু নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাঁকুয়াবাড়ি গ্রামে প্রাণ হারায় মাত্র সাত বছর বয়সী শিশু হাসানুর। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মতো গুরুতর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে মাত্র এক লাখ টাকার বিনিময়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। আইনের দ্বারস্থ না হয়ে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শিশু হাসানুর ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাঁকুয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান ও হাসনা বেগম দম্পতির সন্তান। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় অধিবাসীদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ঝাঁকুয়াবাড়ি গ্রামের পাকা রাস্তার মাথায় হেঁটে যাচ্ছিল শিশুটি। এমন সময় একটি দ্রুতগতির বালুভর্তি ট্রাক্টর তাকে পিষ্ট করে চলে যায়। ট্রাক্টরের ভারী চাকা শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই শিশু হাসানুরের করুণ মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত ঘাতক ট্রাক্টরটির মালিক পাশের পণ্ডিতপাড়া গ্রামের ফুলবর মিয়া।
দুর্ঘটনার পর পরই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে তড়িঘড়ি করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা শুরু হয়। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মাতব্বর মধ্যস্থতা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি সুরাহা করে দেন বলে শিশুর স্বজনেরা জানান। এক নিষ্পাপ শিশুর জীবনের মূল্য মাত্র এক লাখ টাকা নির্ধারণ করে মামলা না করার চুক্তিতে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এভাবে জীবনের হিসাব টাকায় মেটানো হলে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল কোনোদিনই বন্ধ হবে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। চেয়ারম্যান জানান, ট্রাক্টরের ধাক্কায় শিশু মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে এক লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। কোনো প্রকার মামলা না করেই পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটিকে তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়েছে। স্বজনদের দাবি, ঝামেলা এড়াতে গ্রামের গণ্যমান্যদের কথায় তারা এই প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
নাগেশ্বরী থানার কর্মকর্তা মো. এনামুল হক প্রধানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতো। এদিকে অকালে সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। অন্যদিকে গ্রামের সরু রাস্তায় লাইসেন্সহীন বেপরোয়া বালুবাহী ট্রাক্টর ও ট্রলি চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com