Marketing

সাত দফা দাবি এক দফার আগেই মেনে নেওয়ার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের

image (2)

যশোরে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের প্রতি এক দফার আন্দোলনের আগে জনগণের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাত দফা দাবি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল কিংবা নেতার ব্যক্তিগত চাওয়া নয়, এটি সমগ্র দেশবাসীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন। গণভোটের রায় অস্বীকার করে সরকার জনগণকে চরম অপমান করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও রায়ের বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।

শনিবার রাতে যশোরের ঐতিহ্যবাহী মুড়লীর মোড়ে ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই পথসভায় অংশ নিতে যশোর ও আশপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথচেয়ে বসে থাকা উপস্থিত জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশ, মাটি ও জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অপেক্ষা করেছেন।

বক্তব্যে গণভোটের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, অতীত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই গণরায়কে অমান্য করেছে। ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের রায় ছিনতাই করা সম্ভব হলেও গণভোটের স্পষ্ট রায় কোনোভাবেই ছিনতাই করা যায়নি। ইনসাফপূর্ণ, বৈষম্যহীন এবং যুবসমাজের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাত দফা দাবির প্রথম অংশ অর্থাৎ গণরায় বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

পথসভায় সরকারের সুযোগ-সুবিধা ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তামূলক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান যে সাধারণ মানুষের কতজন সরকারের এসব সুবিধা পাচ্ছেন। জনতা নীরব ভূমিকা পালন করলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এসব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা কোথায় অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে? তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত অভাবগ্রস্তরা এসব কার্ড পাচ্ছেন না, বরং গোপনীয় ও অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে তা বণ্টন করা হচ্ছে।

সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখনো সময় রয়েছে, তাই কালক্ষেপণ না করে জনগণের ভাষা বুঝে শুভবুদ্ধির পরিচয় দেওয়া উচিত। সময় গড়িয়ে গেলে জনগণ আর কোনো সুযোগ দেবে না এবং কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নেবে। প্রায় ১৫ মিনিটের জোরালো ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শেষে তিনি লংমার্চের পরবর্তী গন্তব্য কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হন।

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় জোটের অন্য শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, নায়েবে আমির হামিদ হোসেন আজাদ, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম সহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *