Marketing

বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত

wnb news 1793739739 l1oSc5

বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি কোরিয়ান বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্পের বহুমুখীকরণের লক্ষ্য নিয়ে সিউলে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই ঐকমত্য হয়। দুই দেশের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্কের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে বিশদ আলোচনা করা হয়।

গঠিত হতে যাওয়া যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং বাণিজ্যিক চেম্বারের প্রতিনিধিরা যুক্ত থাকবেন। এই গ্রুপ প্রধানত বিনিয়োগের নতুন সুযোগ চিহ্নিতকরণ, ব্যবসা সহজীকরণ সংস্কার, এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে ব্যবসায়িক খাতের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ করবে। প্রথাগত তৈরি পোশাক খাতের বাইরে গিয়ে সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো উচ্চপ্রযুক্তির খাতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল দেশটির বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে গৃহীত নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ তুলে ধরেন। এর মধ্যে মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন, ইলেকট্রনিক্স শিল্পের কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক ২৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্যে আনা এবং কাস্টমস কার্যক্রম দ্রুত করার উদ্যোগগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব সংস্কারের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সিউল সফরকালে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কোরিয়ার শীর্ষ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক পরিচালনা করে। স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের প্রেসিডেন্ট কিম উ-জুনের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে হাই-টেক উৎপাদন বৃদ্ধি ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়ে কথা হয়। একই সঙ্গে লজিস্টিকস ও অটোমোটিভ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে হুন্দাই গ্লোভিস। এছাড়া সামুদ্রিক অবকাঠামো ও ড্রাই ডকিং খাতে হানওয়া ওশানের কারিগরি সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তারা বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করা কোরিয়ান কোম্পানিগুলোর সুবিধার্থে একটি সমন্বিত তালিকা প্রণয়ন করবে। যৌথ এই ওয়ার্কিং গ্রুপ নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য জটিলতা নিরসন ও বিনিয়োগ বাস্তবায়নের ধারা অব্যাহত রাখবে, যা এশীয় অঞ্চলে দুই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *