রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: আগামী বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের প্রস্তুতি
23 October 2026 —
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর দ্বিতীয় ইউনিটে আগামী বছরের জুনের মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ইউনিটের সফল কারিগরি অগ্রগতির পর বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ইউনিটটি চালু হওয়ার পরপরই দ্বিতীয় ইউনিটকে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার উদ্যোগ জোরদার করা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের শুরুর দিকেই দ্বিতীয় ইউনিটের মূল অবকাঠামোগত ও কারিগরি কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম লোডিং সম্পন্ন হওয়া নির্ভর করবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) অনুমোদন ও শেষ মুহূর্তের তদারকি পরীক্ষার ওপর। অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী বছরের জুন নাগাদ আনুষ্ঠানিক ইউরেনিয়াম লোডিং অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং এর পরবর্তী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
প্রকল্পের অগ্রগতির অংশ হিসেবে এর আগে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ সাফল্যজনকভাবে অর্জিত হয়েছে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই চুল্লির চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষ হওয়ার আগেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয় ইউনিটের বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম ইতোমধ্যেই রাশিয়া থেকে আকাশপথে দেশে আনা শুরু হয়েছে। মোট নয়টি বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে এই পারমাণবিক জ্বালানির চালান সরবরাহ করা হচ্ছে, যার মধ্যে সাতটি বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানির জন্য। কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এসব ইউরেনিয়াম পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নিরাপদে পৌঁছানো হচ্ছে।
আধুনিক নিরাপত্তার দিক থেকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ইউনিটেই স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং রোসাটমের বিশেষ ‘ডিজিটাল টুইন’ বা অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরের সাত হাজারের বেশি পরামিতি এবং প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি একযোগে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা কেন্দ্রটির দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে।
পাবনার রূপপুরে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতায় তৈরি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে রয়েছে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি রিয়্যাক্টর। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করার পর দ্বিতীয় ইউনিটের সংযোজন বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com