বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬: ১০ লাখ কর্মসংস্থান ও এআই রূপরেখা ঘোষণা
29 October 2026 —
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী প্রযুক্তি সম্মেলন বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সম্প্রতি আলোঝলমলে এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সক্ষমতা বৃদ্ধির জাতীয় পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। সরকার দেশজুড়ে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আধুনিক তথপ্রযুক্তির মূলধারায় যুক্ত করতে কাজ করছে। এছাড়া শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, অনলাইন নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সংযোগ, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে তিনটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সম্মেলনের মূল আলোচনায় উঠে আসে যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক ডিজিটাল সক্ষমতার গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। আমন্ত্রিত বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, কেবল প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছালেই ডিজিটাল রূপান্তর সফল হবে না। এর বাস্তব সুফল পেতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইস, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট প্যাকেজ এবং সম্পূর্ণ বাংলা ভাষাবান্ধব ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীর নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি বা গ্রামীণ উদ্যোক্তার নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমেই প্রযুক্তির প্রকৃত সার্থকতা পরিমাপ করা সম্ভব।
সম্মেলনে নতুন প্রযুক্তির নীতিগত কাঠামোর বিষয় নিয়ে তথ্য জানানো হয়। আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া জানান, আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও যুগের উপযোগী জাতীয় এআই নীতিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। অন্যদিকে, টেলিকম সচিব ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আন্তর্জাতিক সংযোগের সুবিধা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অর্থপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন। তিনি উদ্ভাবন ও সেবার মান বাড়াতে সরকারি নীতিমালার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন।
অনুষ্ঠানে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কথা মাথায় রেখে দূর্যোগসহনশীল নেটওয়ার্ক রাউটার, নিরবচ্ছিন্ন ব্যাকআপ বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দ্রুত উদ্ধারকারী দল গঠনের জন্য টেক বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানান। এ ছাড়া স্ট্যান্ডঅ্যালোন ৫জি এবং ৬জি প্রযুক্তি প্রবর্তনে তাড়াহুড়া না করে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বাস্তব চাহিদা ও সামগ্রিক প্রস্তুতির ভিত্তিতে যৌক্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে এবং বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সহযোগিতায় এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সর্বোপরি, এই সম্মেলনের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে আগামী দিনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণই যথেষ্ট নয়। সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, নিরাপদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল তৈরি করে এক সমন্বিত টেকসই ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই এখন সময়ের বড় দাবি।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com