ইসলামী ব্যাংকের এমএফএস লেনদেন আগস্টে ২০ শতাংশ কমেছে: বাংলাদেশ ব্যাংক
23 October 2026 —
দেশের শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকের এমএফএস লেনদেন আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে এই সেবায় লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, যার আর্থিক মূল্য ৩৩০ কোটি টাকা। একই সময়ে এসব ব্যাংকের নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের সংখ্যাও দুই লাখের বেশি কমে গেছে, যা সার্বিক ডিজিটাল আর্থিক খাতের অগ্রগতি সত্ত্বেও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবার দুর্বল চিত্র তুলে ধরেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস এর মাধ্যমে মোট লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। আগস্ট মাসে তা একলাফে কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকায়। লেনদেনের এই পতন কেবল আগের মাসের তুলনায়ই নয়, গত বছরের একই সময়ের চেয়েও ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ বা ২৭১ কোটি টাকা কম। লেনদেনের পাশাপাশি সক্রিয় গ্রাহক হিসাবের ক্ষেত্রেও ধস দেখা গেছে। জুলাইয়ে এসব ব্যাংকের এমএফএস হিসাবের সংখ্যা ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৩৭৪টি থাকলেও আগস্টে তা কমে ২৬ লাখ ৬০ হাজার ৮টিতে নেমে আসে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসে ২ লাখ ২০ হাজার ২৮৬টি হিসাব সংকুচিত হয়েছে।
লেনদেনের ভিন্ন ভিন্ন খাত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রধান সূচকগুলোর প্রায় সবকটিতেই মন্দা দেখা দিয়েছে। আগস্ট মাসে এজেন্ট পয়েন্ট থেকে নগদ জমা বা ক্যাশ ইন জুলাইয়ের ৩৪৪ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২১২ কোটি টাকায়। একইভাবে নগদ উত্তোলন বা ক্যাশ আউট ৫০৫ কোটি টাকা থেকে কমে ৪০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এছাড়া ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায় বা পিটুপি লেনদেন ২৫ কোটি টাকা থেকে কমে ২১ কোটি টাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বেতন বিতরণ ৩১৮ কোটি টাকা থেকে কমে ১৯৪ কোটি টাকায় ঠেকেছে।
তবে সার্বিক পতনের মাঝেও সামান্য কিছু খাতে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। আগস্টে মার্চেন্ট পেমেন্ট জুলাইয়ের ৪১৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৪৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে সরকারি অর্থ বা ভাতা প্রদান (জিটুপি) লেনদেন ১৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১০১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তা সত্ত্বেও প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তুলনায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ডিজিটাল অবস্থান অত্যন্ত নগণ্য। আগস্ট মাসে মোট ব্যাংকিং খাতের এমএফএস হিসাবের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অংশ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং মোট লেনদেনের ক্ষেত্রে তাদের অবদান ছিল মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য আট শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাব এবং সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের আস্থার ঘাটতিই এই পতনের মূল কারণ। এমএফএস খাতে কেবল নতুন হিসাব খোলাই যথেষ্ট নয়, বরং গ্রাহকদের সক্রিয় রাখা এবং লেনদেনের সুযোগ সহজতর করা প্রয়োজন। তীব্র প্রতিযোগিতামূলক মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস বাজারে টিকে থাকতে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে দ্রুত প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও গ্রাহক আস্থা ফেরানোর দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com