বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করল বিইআরসি: ইউনিটে পাইকারি দর ৬.৯৮ ও ৭.১১ টাকা
1 October 2026 —
বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুতের দাম ও উন্মুক্ত সঞ্চালন মাশুল চূড়ান্ত করে নতুন ট্যারিফ কাঠামো ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বা মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ৩৩ কিলোভোল্ট সংযোগে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ১৩২ কিলোভোল্ট সঞ্চালন লাইনে ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। আগামী ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে সমন্বিত এই নতুন মূল্যহার কার্যকর করা হবে।
কমিশন থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রযুক্তিগত সংহতি সহজ করতে ভোল্টেজভেদে বিদ্যুতের দর এবং তৃতীয় পক্ষের সরবরাহের জন্য ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালার আলোকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ ব্যবস্থার কাছে বিক্রির বাধ্যবাধকতা থাকবে। তবে অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ উদ্যোক্তারা সরাসরি বাণিজ্যিক ও বৃহৎ শিল্প গ্রাহকদের কাছে নিজস্ব চুক্তিমূল্যে বিক্রির সুযোগ পাবেন।
জাতীয় সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযোগের ধরনভেদে উন্মুক্ত সঞ্চালন মাশুল নির্ধারিত হয়েছে। কেন্দ্র ও সংযোগের ধরন অনুযায়ী প্রতি ইউনিটে এই মাশুল ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৯০৯৭ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে। সরাসরি গ্রিড ও বিতরণ সংস্থায় যুক্ত থাকার ক্ষেত্রে ২৩০ কেভিতে মোট মাশুল ১ দশমিক ৫৯৮৯ টাকা, ১৩২ কেভিতে ১ দশমিক ৬০২৫ টাকা এবং ৩৩ কেভিতে ১ দশমিক ৬০৯৭ টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক আলাদা বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল যুক্ত হবে।
কমিশনের মূল্যসূচি অনুযায়ী বিতরণ সংস্থাভিত্তিক পৃথক মাশুল কাঠামোর মধ্যে পিডিবির জন্য ৭০ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) জন্য ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ডিপিডিসির জন্য ৮৫ পয়সা, ডেসকোর জন্য ৯৯ পয়সা, ওজোপাডিকোর জন্য ৮৭ পয়সা এবং নেস্কোর জন্য ১ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক এসব কেন্দ্রের সার্বিক হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিলিং নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকবে পিডিবি।
এর আগে আয়োজিত গণশুনানিতে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের পাইকারি দাম ৬ টাকা ৪৮ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরবর্তীতে পিক-আওয়ারে বিতরণ সংস্থাগুলোর শিল্প গ্রাহক হারানোর ঝুঁকি এবং বিনিয়োগকারীদের মূলধনী সুরক্ষার বিষয়টি পর্যালোচনা করে জ্বালানি খাতের টেকসই রূপান্তরে এই ভারসাম্যপূর্ণ ট্যারিফ কাঠামো চূড়ান্ত করল বিইআরসি।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com