কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কর্মসংস্থান নিয়ে জাতিসংঘে সতর্কতা: এআই স্বয়ংক্রিয় করলেও জবাবদিহি সম্ভব নয়
22 October 2026 —
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কর্মসংস্থান বিষয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ ও সম্ভাবনার মাঝে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান শ্রমজীবীদের অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ সুরক্ষায় জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কাজের প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারলেও এটি কোনোভাবেই নীতিগত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারে না। আমেরিকার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ১৬তম ‘এনগেজিং বিজনেস ফোরাম’-এর মূল অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি আধুনিক প্রযুক্তির যুগে শ্রমিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অফিশিয়াল ও ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘এআই অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ওয়ার্ক: আ হিউম্যান রাইটস ইমপারেটিভ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ফোরামে মূলবক্তা হিসেবে অংশ নেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে এআই প্রযুক্তির নতুন প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প খাতে অভাবনীয় সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে। তবে একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত প্রয়োগ শ্রমিকের নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বর্তমান কর্মপরিবেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যালগরিদমের প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে জাতিসংঘ প্রতিনিধি জানান, কর্মী নিয়োগ, কাজের পরিবেশ ট্র্যাকিং, কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন এবং চাকরি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে। অ্যালগরিদমের তৈরি এসব সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক পর্যায়ে ডেটা প্রাইভেসি, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং বৈষম্যহীন নীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জটিল আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন তুলছে, যা সরাসরি কর্মীদের জীবিকাকে প্রভাবিত করছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড. খলিলুর রহমান করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতি বিশেষ তাগিদ দেন। তিনি বলেন, এআই ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োগের যেকোনো ধাপে সরাসরি কর্মীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক অ্যালগরিদম বা এআই মডেলের নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত যা শ্রমিকের পেশাগত ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আইনগত অধিকার বহাল রাখতে হবে।
সম্মেলনে এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের ফলে তৈরি হওয়া সামগ্রিক বৈশ্বিক ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণ, অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যস্ফীতি এবং আর্থিক খাতের স্থায়িত্ব রক্ষায় সরকার ও শিল্প খাতের শীর্ষ নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করা হয়। প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্ট’-এর নীতিগুলো অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
পরিশেষে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি পুনর্ব্যক্ত করেন যে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে প্রতিটি শ্রমিকের অধিকারের কার্যকর আইনি সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি দায়িত্ব। আধুনিক এআই ব্যবস্থার সুফল গ্রহণের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com