Marketing

জার্মানিতে সহিংস বিক্ষোভ ও দোকানপাট লুটপাট, ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে তারুণ্যের ক্ষোভ

image (2)

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ঘাটতি ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে জার্মানিতে সহিংস বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টসহ বার্লিন, কোলোন ও হামবুর্গে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন রাতে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও বিশেষ ফোর্স ব্যবহার করে একাধিক স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে এবং শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

সামাজিক প্রচারণামূলক সংগঠন ‘জেন জেড রেগেল্ট’ (যার অর্থ ‘জেন জেড দায়িত্ব নিচ্ছে’)-এর আহ্বানে মূলত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনের ডাক দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব, অব্যাহত মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যসেবার সংকট এবং সম্ভাব্য বাধ্যবাধকতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। শনিবার দিনভর হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অধিকাংশ স্থানে কর্মসূচিগুলো শান্তিপূণভাবে সম্পন্ন হলেও রাতের আঁধারে পরিবেশ দ্রুত সহিংস হয়ে ওঠে।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্টে বিশৃঙ্খলাকারীরা জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, বোতল ও মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করে। শহরের প্রধান কেনাকাটার বাণিজ্যিক এলাকায় বেশ কিছু দোকানপাটের কাচ ভেঙে জিনিসপত্র লুট করা হয়। এমনকি একটি অস্ত্রের দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র চুরির ঘটনাও ঘটে, তবে পরবর্তীতে অভিযুক্তকে আটক করে অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। একই সঙ্গে হামবুর্গ ও বার্লিনে ব্যারিকেডে আগুন জ্বালানো এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

জার্মানির হেসেন অঙ্গরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। আন্দোলনকারীদের একাংশের অশুভ ইঙ্গিত উল্লেখ করে তিনি জানান, মূল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে প্রায় একশ চিহ্নিত চরমপন্থী আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডট লুটপাটকারী ও সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা জানিয়েছেন।

সংগঠনটির মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ এক বিবৃতিতে জানান, তরুণ সমাজ যুদ্ধ বা জবরদস্তির পরিবর্তে শান্তি, স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তরুণরা মূলত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা বৃদ্ধি এবং আবাসন সংকট নিরসনের দাবি জানাচ্ছে। তবে কোলন ও বার্লিনের পুলিশ প্রশাসন দাবি করেছে যে, আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী উগ্রপন্থীরা তরুণদের মৌলিক আন্দোলনকে নিজেদের সহিংস লক্ষ্য বাস্তবায়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।

বর্তমানে কেবল জার্মানিই নয়, বরং পুরো ইউরোপ জুড়েই তরুণদের বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। ফ্রান্সে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ সম্প্রতি রাস্তায় নেমে জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এছাড়া ইতালি, পর্তুগাল, স্পেন এবং আয়ারল্যান্ডেও আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার মান অবনতির প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ ও অনিশ্চিতFutures এর কারণে ইউরোপের নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ এখন এক গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *