Marketing

ফুডপান্ডার শীর্ষ কর্মকর্তাদের আগাম জামিন: জালিয়াতির মামলায় হাইকোর্টের আদেশ

wnb news 1791342131 7zPXsD

জালিয়াতি, ডাটা মুছে ফেলা এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ফুডপান্ডার শীর্ষ কর্মকর্তাদের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরপরই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পাঁচজন হাইকোর্টে আবেদন জানালে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে ই-কমার্স ও কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডা এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের বিরুদ্ধে সরবরাহকৃত পণ্যের টাকা আত্মসাৎ, ডিজিটাল সিস্টেমে কারচুপি ও ভুয়া ফেরত চালান (আরটিভি) তৈরির অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ গুলশান থানার দীর্ঘ এক বছরের তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় এ পরোয়ানা দেন। পরোয়ানাভুক্ত কর্মকর্তারা হলেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আম্বারিন রেজা, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, পান্ডামার্টের পরিচালক মো. তাবরেজ খান, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক এবং সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজেদুল হক।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ ও ‘আইপিএলই ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক’-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে গুলশান থানায় এ সংক্রান্ত চারটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পান্ডামার্টে নিয়মিত পণ্য সরবরাহ করা হলেও দীর্ঘ দিন ধরে বকেয়া কোটি কোটি টাকা আটকে রাখা হয়। কোনো নোটিশ না দিয়েই নষ্টের অজুহাতে ভুয়া চালান তৈরি করে অর্থ কেটে নেওয়া এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মূল ডেটা সফটওয়্যার থেকে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার প্রমাণ পায় তদন্তকারী সংস্থা।

পরোয়ানা জারির পর ফুডপান্ডার সিস্টার কনসার্ন ডেলিভারি হিরো স্টোরস (ডিএইচ স্টোরস) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। পরোয়ানা জারিকে সাধারণ বিচারিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, উচ্চ আদালত ইতোমধ্যে কর্মকর্তাদের জামিন নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও পাওনা লেনদেনজনিত দ্বন্দ্বে এই মামলা করা হয়েছে। নিজেদের দায় এড়াতে এবং জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি করতেই বাদী এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

অন্যদিকে মামলাটির বাদী শিহাব মাহমুদ বশির পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বকেয়া অর্থ উদ্ধার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পরোয়ানা পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের জামিন আদেশের মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *