আইপিইস্পিয়ার সিজন-২ এর গ্র্যান্ড ফিনালে শাবিপ্রবিতে: ৩৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৬ দলের লড়াই
21 September 2026 —
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) উৎসবমুখর পরিবেশে শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল (আইপিই) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিযোগিতা আইপিইস্পিয়ার সিজন-২-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাভবন ‘সি’-এর কার্যালয়ে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কেক কেটে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক জি এম রবিউল ইসলাম। দেশের মোট ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৬টি দলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা তরুণ প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে এক অনন্য মঞ্চ হিসেবে রূপ নেয়।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে সমৃদ্ধ করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (ডুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইকবাল। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবির আইপিই বিভাগের ডিসটিংগুইসড অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আবু হায়াত মিঠু, অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ এবং অধ্যাপক ড. আবুল আনাম রাশেদ। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও কারিগরি দক্ষতাকে শিল্প খাতের বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্ভাবনী ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে তিনটি মূল ক্যাটাগরিতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. নাসিমা বেগম জানান, জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজনে বিজনেস কেস স্টাডি, ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ এবং কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন বা ক্যাড (CAD) প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের শিল্প কাঠামোর বহুমুখী সমাধান তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে সারাদেশের ৩৪টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেকর্ডসংখ্যক ১৯৬টি শিক্ষার্থী দল নিবন্ধিত হয়। এর মধ্যে বিজনেস কেস ক্যাটাগরিতে ১০৭টি, ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ক্যাটাগরিতে ৪৪টি এবং ক্যাড প্রতিযোগিতায় ৪৫টি দল অংশগ্রহণ করে। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাথমিক পর্ব এবং কয়েকটি কঠোর মূল্যায়নের ধাপ অতিক্রম করার পর দেশসেরা ২৭টি দল গ্র্যান্ড ফিনালের চূড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনীত হয়।
গ্র্যান্ড ফিনালে উত্তীর্ণ হওয়া দলগুলোর মধ্যে বিজনেস কেস ক্যাটাগরি থেকে ১০টি, ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ থেকে ৭টি এবং ক্যাড প্রতিযোগিতা থেকে ১০টি দল দিনব্যাপী তাদের নিজ নিজ প্রকল্প ও উদ্ভাবনী নকশা বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করে। তিনটি ভিন্ন বিভাগে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থাপিত কারিগরি ও ব্যবসায়িক মডেলগুলোর মূল্যায়ন শেষে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা ৩টি করে মোট ৯টি দলকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হয়। বিজয়ীদের মধ্যে আকর্ষণীয় ট্রফি ও অর্থ পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
উদ্ভাবনী প্রজেক্ট প্রদর্শনী ও সমাপনী বক্তব্য পর্বে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন যে, আইপিইস্পিয়ার সিজন-২-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেসব নেটওয়ার্কিং ও বাস্তবভিত্তিক প্রকৌশল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, তা ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র এবং শিল্প বিপ্লবের উপযোগী মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই ধরণের প্রতিযোগিতা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অ্যাকাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাপ্লিকেশনের সমন্বয় ঘটাতে বিশেষ অবদান রাখছে বলে মনে করেন উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com