Marketing

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন: নিবর্তনমূলক ধারা বাতিলের দাবিতে সোচ্চার সুশীল সমাজ

wnb news 1792368191 ZCMZkV

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনীতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করা এবং নিবর্তনমূলক ধারা পুনর্বহালের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা সতর্ক করে বলেন, অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করে এ আইন পাস করা হলে তা সরকারের জন্যই বুমেরাং হতে পারে।

নাগরিক সমাজের ১৯টি সংগঠন ও ১৭ সদস্যবিশিষ্ট মিডিয়া কমিটির যৌথ অংশগ্রহণে আয়োজিত এ পর্যালোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, শুধু সাধারণ নাগরিকদের ওপর কড়া আইন না চাপিয়ে অপতথ্য ছড়ানো রোধে ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার অশুভ আঁতাতের ফলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যম সুরক্ষার তাগিদ দেন।

সভায় সাইবার অপরাধ দমনের প্রয়োজনীয়তা মেনে নিয়ে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সরকারের সমালোচনা ও অপরাধকে কখনোই এক করে দেখা যাবে না। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা স্বাভাবিক ঘটনা। ব্যক্তির অপরাধের অজুহাতে পুরো সংবাদমাধ্যম বন্ধ করা, সন্দেহের বশে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও ডেটা সেন্টার জব্দ করা এবং সাংবাদিকদের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ার দেওয়ার মতো বিধানগুলো আইনটির চরম অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করবে।

অনলাইন মাধ্যমে চরিত্রহনন ও সহিংসতা রোধ প্রসঙ্গে ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ফেসবুক বা ইউটিউবে অপপ্রচার ঠেকাতে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সরাসরি ও কার্যকর যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তবে পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনের বদলে প্রচলিত দেওয়ানি আইনে মানহানির ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত আইনের নিবর্তনমূলক একাধিক ধারা সংশোধনের জোর দাবি জানান।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং রাজনীতি ডটকমের সম্পাদক শরীফুজ্জামান পিন্টু খসড়া আইনের অস্পষ্টতা ও নির্বাহী বিভাগকে দেওয়া নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের কোনো ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি। ফলে এ ধরনের আইন স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করবে।

আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনেরা একমত পোষণ করেন যে, মুক্ত সাংবাদিকতা ও জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় আইনটির বিতর্কিত ধারাগুলো বাদ দেওয়া জরুরি। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের পরামর্শের ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য আইনি কাঠামো রূপায়ণের জন্য তাঁরা সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *