রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষা সম্পন্ন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি
27 October 2026 —
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত দেশের বৃহত্তম এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে ‘ফিজিক্স টেস্ট’সহ বি-২ পর্যায়ের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সি-স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বি-২ পর্যায়ের যাবতীয় মূল্যায়নের বিস্তারিত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে নিয়ামক সংস্থায় জমা দেওয়া হয়েছে। সকল ধরনের নিরাপত্তা মান ও কারিগরি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মিললে খুব দ্রুত প্রথম ইউনিটের পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ধাপে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে রিঅ্যাক্টরের সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
নিউক্লেইয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, পাওয়ার স্টার্টআপ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অত্যন্ত সংবেদনশীল কারিগরি পর্যায়। এই প্রক্রিয়ায় রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে পরিচালনগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন মান পরীক্ষা করা হয়। সকল আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করেই পরবর্তী ধাপে এগোতে হয়।
প্রথম ইউনিটের সর্বোচ্চ স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট হলেও শুরুতে পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ মিলবে না। কেন্দ্রটির উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে, অর্থাৎ প্রায় ৩০০ থেকে ৪২০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে যোগ করা হবে। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন আশা প্রকাশ করেছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি ও কারিগরি প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’-এর প্রথম উপ-মহাপরিচালক আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠক করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতি স্থাপন ও ভবিষ্যতের কারিগরি সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।
উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। রূপপুরের এই দুটি ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com