অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান দিলে পুরস্কার ও আইনি সুরক্ষার ঘোষণা এসআরবি প্রধানের
19 September 2026 —
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান দেওয়া সাধারণ মানুষকে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি সব ধরনের আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর প্রধান কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী এই কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই তথ্যদাতারা নিরাপদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার সুযোগ পাবেন এবং তাদের নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি প্রধান জানান, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এসআরবির যৌথ সমন্বয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান পরিচালনাকালে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো কিছু অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রাথমিক তথ্য এসেছে। পর্যাপ্ত ও সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক স্থানে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হচ্ছে বিধায় উদ্ধার কার্যক্রমে গতি আনতে তারা সাধারণ জনগণের সরাসরি সহযোগিতা কামনা করছেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের সুযোগে অস্ত্র হস্তগত হওয়া প্রসঙ্গে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, অনেকেই হয়তো বিশেষ পরিস্থিতির মুখে পড়ে থানা বা অন্যান্য স্থান থেকে অস্ত্র নিজেদের জিম্মায় নিয়েছিলেন। তাদের সবার অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা বা গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেকে অস্ত্র জমা দিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। এসব সাধারণ নাগরিকদের ভয় দূর করতে এবং তাদের নিরাপদ পথ করে দিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্য দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।
আইনি সুরক্ষার বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি সরাসরি থানায় না এসেও নির্দ্বিধায় তথ্য দিতে পারেন। কেবল নির্দিষ্ট কোনো নিরাপদ স্থানে অস্ত্র রেখে সেটির অবস্থান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে দিলেই হবে। খবর পাওয়া মাত্রই যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে অস্ত্র উদ্ধার করবে। তথ্যদাতাকে কোনো আইনি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে না, বরং সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাকে উপযুক্ত সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকা বিশেষ করে মোহাম্মদপুরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন এসআরবি প্রধান। তিনি জানান, যেকোনো এলাকার দীর্ঘদিনের অপরাধচিত্র এক রাতে বদলে ফেলা সম্ভব নয়, তবে সেখানে এসআরবির তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি করা হয়েছে। মোহাম্মদপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আধুনিক সাইবার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। সুনির্দিষ্ট এই পদক্ষেপগুলোর ফলে দ্রুতই মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com