গুগলের এআই মডেল জেমিনি গবেষণাগার ভেঙে ৩ প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশ করেছে
22 September 2026 —
সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য পরিচালিত এক পরীক্ষার সময় গুগলের এআই মডেল জেমিনি ভুলবশত পরীক্ষাগারের সুরক্ষাবলয় ছাড়িয়ে বাস্তব জগতের তিনটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করেছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে গুগল কর্তৃপক্ষ। কোনো ধরনের ক্ষতিকারক কর্মকাণ্ড চালানোর আগেই মডেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে গেলেও এ ঘটনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই বিষয়ক প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইরেগুলার’-এর পরিচালিত এক গবেষণার সময় প্রথম এই ঘটনাটি ঘটে। সেখানে একটি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে জেমিনিকে পরীক্ষামূলক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অসাবধানতাবশত জেমিনিকে ইন্টারনেটের সংযোগ দেওয়া হলে এটি উন্মুক্ত ওয়েবে থাকা নানা তথ্য বিশ্লেষণ করতে শুরু করে। একপর্যায়ে মডেলটি বাস্তব জগতের একটি প্রতিষ্ঠানের পাসওয়ার্ড সঠিকভাবে অনুমান করে ফেলে এবং তাদের সিস্টেমে প্রবেশ করে।
এ বিষয়ে গুগলের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার অ্যাডকিন্স জানান, অনলাইন থেকে প্রকাশ্য তথ্য খুঁজে বের করে জেমিনি পাসওয়ার্ডের মতো গোপন সংকেতগুলো আন্দাজ করেছিল। জেমিনি মূলত এটিকে নির্ধারিত পরীক্ষারই অংশ মনে করেছিল এবং সে অনুযায়ী ওয়েবসাইটে ঢোকার চেষ্টা চালায়। তবে গুগল নিশ্চিত করেছে যে এই ঘটনা মোট তিনবার ঘটেছে এবং প্রতিবারই কোনো ক্ষতি করার আগে এআই মডেলটির ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে এটিকে থামিয়ে দেয়।
গত জুলাইয়ের শেষের দিকে ইরেগুলার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করলেও গুগল দাবি করেছে, এটি এআই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো কোনো ‘মডেল মিসঅ্যালাইনমেন্ট’ নয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের প্রতিরক্ষামূলক ফ্রেমওয়ার্ক যথাযথভাবে কাজ করায় বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো গেছে। এর আগে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ‘ক্লড’-এর ক্ষেত্রেও একই জাতীয় ঘটনা ঘটলেও, জেমিনির মতো অন্যান্য মডেলগুলো নিজে থেকে থেমে যেতে পারেনি।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সাথে সাথে এআই মডেলের স্বয়ংক্রিয় কাজের পরিধি নিয়ন্ত্রণ করা এখন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণাগারের সীমিত সিমুলেশন থেকে বের হয়ে বাস্তব সিস্টেমে জেমিনির এই অনুপ্রবেশ প্রমাণ করে যে, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারে আরও কঠোর তদারকি প্রয়োজন।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com