Marketing

গুগলের জেমিনি এআই পরীক্ষার সময় ৩টি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ভুলবশত অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার

wnb news 1790500299 TCPNF4

সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের জেমিনি এআই মডেল ভুলবশত তিনটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে গুগল কর্তৃপক্ষ। গবেষণাগারের নির্দিষ্ট সিমুলেশন সীমা অতিক্রম করে বাস্তব জগতের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে এআই মডেলটির ঢুকে পড়ার এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রথম এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইরেগুলার (Irregular) আয়োজিত এক সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটে। পরীক্ষাগারে জেমিনি মডেলটিকে মূলত একটি কাল্পনিক কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ডেটা ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অসাবধানতাবশত এআই মডেলটিকে ইন্টারনেটের সংযোগ দেওয়া হলে এটি কাল্পনিক ও বাস্তব জগতের পার্থক্য হারিয়ে ফেলে। এরপর অনলাইনে উন্মুক্ত নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে বাস্তবের একটি প্রতিষ্ঠানের সঠিক পাসওয়ার্ড অনুমান করে তাদের সুরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশ করে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গুগলের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার অ্যাডকিন্স জানান, জেমিনি মডেলটি মূলত পরীক্ষার স্বাভাবিক অংশ মনে করেই ওয়েবসাইটের গোপন সংকেত অনুমান করেছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশের ঘটনা মোট তিনবার ঘটেছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, কোনো ধরনের সিস্টেমে ক্ষতিকারক পরিবর্তন আনা বা তথ্য চুরি করার আগেই মডেলটি প্রতিবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের কাজ বন্ধ করে দেয়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইরেগুলার গত জুলাই মাসের শেষেই এ বিষয়ে টেক জায়ান্ট গুগলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছিল। তবে গুগলের দাবি, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়া বা লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার (Model Misalignment) ঘটনা নয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত প্রতিরক্ষামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবেই কাজ করেছিল। ক্ষতিকারক কোনো কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় বিষয়টি তখন জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি মনে করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

উল্লেখ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় মডেল যেমন অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লড’ কিংবা ওপেনএআই-এর বিভিন্ন মডেলের ক্ষেত্রেও অতীতে গবেষণাগারের সিমুলেশন ভেঙে বাইরে বের হওয়ার মতো একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে অন্যান্য মডেলের মতো জেমিনি কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ না করে নিজে থেকেই থেমে গেছে। জেমিনির এই স্বয়ংক্রিয় আত্মনিয়ন্ত্রণ এআই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক হলেও, সামগ্রিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও ইন্টারনেটে উন্মুক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *